নেছারাবাদে জমি নিয়ে বিরোধ, রাতে ঘর ভাঙচুরের কথা স্বীকার

হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে জমি নিয়ে বিরোধ, রাতে ঘর ভাঙচুরের কথা স্বীকার
সোমবার ● ২ নভেম্বর ২০২৬


নেছারাবাদে জমি নিয়ে বিরোধ, রাতে ঘর ভাঙচুরের কথা স্বীকারসাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে পারিবারিক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। আদালতের মাধ্যমে জমি উদ্ধার করে সেখানে ঘর নির্মাণের দাবি করেছেন এক পক্ষ। অন্য পক্ষের দাবি, জমিটি ছয় ওয়ারিশের পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। এ বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘর ভাঙার কথা স্বীকারও করেছেন অপর পক্ষের একজন। পরদিন সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে টাঙানো হয় কবরস্থানের সাইনবোর্ড।

 

সোমবার (২ নভেম্বর) নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জগৎপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. লালন নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রাতে লালন বাড়িতে না থাকার সুযোগে রাসুল, মজনু, জসিমসহ কয়েকজন তাঁর নির্মিত ঘর ভাঙচুর করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন লালনের স্ত্রী। ভাঙচুরের শব্দ শুনে তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে, মা ও চাচি ঘর থেকে বের হলে তাঁদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস পাননি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান লালনের পরিবারের সদস্যরা। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা চলে যান। পরদিন সকালে ওই জমিতে কবরস্থানের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।

 

লালনের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের দাদার সম্পত্তি। এর ছয়জন ওয়ারিশ রয়েছেন। প্রায় ৪০ বছর ধরে নুরুজ্জামান চৌধুরীরা জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। পরে আদালতে মামলা করে তিনি জমিটি উদ্ধার করেন। মামলা পরিচালনায় অন্য ওয়ারিশরা কোনো আর্থিক সহযোগিতা করেননি বলেও দাবি তাঁর। আদালতের মাধ্যমে জমি উদ্ধারের পর সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করে রাজমিস্ত্রির কাজের বিভিন্ন মালামাল রাখতেন তিনি।

 

লালনের অভিযোগ, রাস্তার পাশে হওয়ায় জমিটির বর্তমান মূল্য বেড়েছে। এ কারণে অন্য ওয়ারিশরা জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। তাঁদের দাদার সম্পত্তি এখনো ওয়ারিশদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়নি। প্রত্যেকের বাড়ির পাশে আলাদা কবরস্থান রয়েছে। বিরোধপূর্ণ জমিতে এখন পর্যন্ত কাউকে দাফনও করা হয়নি। ভুলবশত জমিটি কবরস্থানের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

অন্যদিকে মজনু হাওলাদারের দাবি, জমিটি তাঁদের ছয় ওয়ারিশের পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। লালন জোরপূর্বক সেখানে ঘর নির্মাণ করেছেন এবং কারও কথা শোনেন না। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেও তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা দিনমজুর হওয়ায় দিনের বেলায় কাজের কারণে সময় পান না। এ কারণে রাতে ঘরটি ভেঙে ফেলেছেন বলে স্বীকার করেন মজনু। কবরস্থানের জায়গা দখলমুক্ত করতেই তাঁরা এ কাজ করেছেন বলে দাবি তাঁর।

 

এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে ৮০৯ নম্বর দাগের ২ দশমিক ৩১ শতাংশ জমি লালনের দাদা কবরস্থানের জন্য রেখে গেছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাই জায়গাটি কবরস্থানের জন্য নির্ধারণ করা হয়। তবে লালন তাঁদের সিদ্ধান্ত মানেননি।

 

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘর ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। এর আগে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মারামারির মামলাও হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১:১৮:১৪ ● ২৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ