সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার আমতলীতে ইলিশ রক্ষায় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি মানবিক সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গুলিশাখালী ইউনিয়নের এক হাজার ৮৫০ জন জেলের জন্য বরাদ্দ করা ৪৬ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ১০ মেট্রিক টন আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া চাল দেওয়ার কথা বলে জেলেদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০ টাকা আদায়ের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জেলেদের অভিযোগ, গত রবিবার ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের সাত শতাধিক জেলের জন্য খাদ্যগুদাম থেকে ১৮ মেট্রিক টন চাল ছাড় করিয়ে নেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম। পরে গত বৃহস্পতিবার ছয় শতাধিক জেলেকে চাল দেওয়ার কথা বলে আমতলী উপজেলা খাদ্যগুদামে ডেকে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অল্পসংখ্যক জেলেকে চাল দিয়ে কয়েক শ জেলেকে তালিকায় নাম নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ডালাচারা গ্রামের জেলে জাকির হাওলাদার ও মোকলেস চৌকিদার অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক নিবন্ধিত জেলেকে তালিকায় নাম নেই বলে চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তাঁদের দাবি, খাদ্যগুদাম থেকে ১০ মেট্রিক টন চাল কাগজে-কলমে ছাড় করিয়ে জেলেদের মধ্যে বিতরণ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিতরণ তালিকার স্বাক্ষর ও টিপসই যাচাই করলেই বিষয়টি বেরিয়ে আসবে।
খেকুয়ানী গ্রামের জেলে মোস্তফা হাওলাদার বলেন, তাঁর জেলে নিবন্ধন কার্ড থাকা সত্ত্বেও তালিকায় নাম নেই বলে তাঁকে চাল দেওয়া হয়নি।
জেলে রাকিব ও সোহাগ অভিযোগ করেন, চাল পরিবহন বা ভাড়া বাবদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে আদায় করেছেন। টাকা না দিলে চাল দেওয়া হয়নি।
আমতলী উপজেলা খাদ্যগুদামে চাল বিতরণের কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, গুলিশাখালী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৩৬ মেট্রিক টন চাল ছাড় করিয়ে নিয়েছেন। বাকি চাল তিনি নেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব জেলের মধ্যে সঠিকভাবে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী ও গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গুলিশাখালী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।