কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণের অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণের অভিযোগ
সোমবার ● ২ নভেম্বর ২০২৬


 

প্রতীকী চিত্র

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসার নামে অসুস্থ এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক মেলামেশায় বাধ্য করা এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে কিশোরী ও তার মাকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও উঠেছে। সর্বশেষ কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ে না করার কথা জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা।

 

এ ঘটনায় কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসা ও তার স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ গত ৩১ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (২০২৬ সালের সংশোধনীসহ) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করেন।

 

মামলার এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার মনসাতলী গ্রামের তাইজুল ইসলাম মুসা (৪০), তার স্ত্রী ফাহিমা বেগম (২৮), জেলার গলাচিপা উপজেলার অসিম গাজী (৩৫), কলাপাড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল গনি মুন্সী (৩৮), কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামের রাসেল আকন (৩৮), নাচনাপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ (৫০) ও রমজান গাজী (২৮)।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান রিয়াজ কর্মস্থলের কারণে বরিশালের রূপাতলীতে থাকেন। তার স্ত্রী ও প্রথম স্ত্রীর কিশোরী মেয়ে কলাপাড়ার নাচনাপাড়ায় আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। প্রায় ১৪ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে ওই কিশোরী সৎমায়ের সঙ্গে কলাপাড়ায় বসবাস করছেন। রিয়াজ মাঝেমধ্যে সেখানে আসতেন।

 

কিশোরী অসুস্থ থাকায় পরিবার বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করছিল। এ সময় পূর্বপরিচিত অসিম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসার নামে তাইজুল কিশোরীকে নানা কৌশলে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করেন। এ সময় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।

 

পরে ওই ভিডিও ব্যবহার করে কিশোরীকে একাধিকবার দৈহিক মেলামেশায় বাধ্য করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে কিশোরী ও তার মা বিয়ের বিষয়ে তাইজুল ও অসিমকে চাপ দেন। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোবাইল ফোনে থাকা ভিডিও পেনড্রাইভে নিয়ে কিশোরীর বাড়িতে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এজাহারে আরও বলা হয়, বাড়িতে গিয়ে কিশোরী ও তার মাকে বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেওয়া হয়। অন্যথায় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এতে পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন কিশোরীর বাবা।

 

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৩০:৩৬ ● ৩৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ