
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ
তাইওয়ানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের মো. আনিসুর রহমান (৫২)। বর্তমানে তাঁর মরদেহ সংরক্ষিত রয়েছে সেখানকার একটি হাসপাতালে। দেশে স্ত্রী শিলা আক্তার, এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মেয়ে জুম্মী রহমান ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছেলে জারিফ রহমান বাবার মরদেহের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পারছেন না শিলা আক্তার। শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি।
গত ৩১ অক্টোবর সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে আনিসুর রহমানকে নিউ তাইপেই সিটির ফু জেন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর থেকে তাঁর মরদেহ ওই হাসপাতালেই রাখা হয়েছে।
চলতি বছরের ২২ জুন ট্যুরিস্ট ভিসায় তাইওয়ানে যান আনিসুর রহমান। সেখানে অবস্থানকালে তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরই মধ্যে আকস্মিকভাবে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ খবর দেশে পৌঁছালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বিদেশ থেকে মরদেহ আনার প্রয়োজনীয় ব্যয় বহনের সামর্থ্য নেই স্বজনদের, এমনটাই দাবি করেছে তাঁর পরিবার।
এ পরিস্থিতিতে স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহায়তা চেয়েছেন শিলা আক্তার। সোমবার (২ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন তিনি।
আনিসুরের বড় ভাই নাজমুল হক, মেজ ভাই আজিজুর রহমান ও ছোট ভাই আফজালও সরকারের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, ‘ভাইকে শেষবারের মতো দেখতে চাই। নিজেদের উদ্যোগে বিদেশ থেকে তাঁর মরদেহ দেশে আনার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া ভাইয়ের মুখ শেষবারের মতো দেখাও হয়তো সম্ভব হবে না।’
এদিকে বাবার মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছে দুই সন্তান। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলে-মেয়েরা বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে চায়। দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করাই এখন পরিবারের সবার একমাত্র চাওয়া।
শিলা আক্তার তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, তাইওয়ানে অবস্থানরত আনিসুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইয়াং জিয়ান-কাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর মৃত্যু ও মরদেহ সংরক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। মরদেহ দেশে পৌঁছালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি তা গ্রহণ করবেন।
মৃত আনিসুর রহমানের পাসপোর্ট নম্বর বি০০৩৭৩৩৪৭। তাঁর বাবার নাম আবুল বাসার মুন্সী এবং মায়ের নাম ফিরোজা বেগম।
স্বামী ও ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন শিলা আক্তারসহ পরিবারের সদস্যরা।