বরগুনায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী, কথিত স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

হোম » বরগুনা » বরগুনায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী, কথিত স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা
রবিবার ● ১ নভেম্বর ২০২৬


বরগুনায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী, কথিত স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাসাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

গর্ভে ৯ মাসের সন্তান। প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলেও অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এক নারী। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে বিয়ের পর চার বছর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সম্পর্ক বজায় রাখলেও এখন বিয়ে ও গর্ভের সন্তান দুটিই অস্বীকার করছেন কথিত স্বামী। বিয়ের নিবন্ধন করে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুকও দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারীর করা মামলায় আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

রবিবার (১ নভেম্বর) বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ দেন।

 

মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বরগুনা সদর উপজেলার চরকগাছিয়া গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলামকে (২৬)।

 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ আগস্ট স্থানীয়ভাবে একজন মৌলভীর মাধ্যমে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। এরপর থেকে তাঁদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কও ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি।

 

নারীর অভিযোগ, সন্তান জন্মের সময় ঘনিয়ে আসতেই রফিকুল ইসলাম বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করতে শুরু করেন। এমনকি তাঁর গর্ভের সন্তানও নিজের নয় বলে দাবি করছেন। গত ৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি রফিকুল ইসলামের কাছে বিয়ের রেজিস্ট্রি ও কাবিননামা চান। তখন বিয়ের নিবন্ধন করে দেওয়ার বিনিময়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে বিয়ে নিবন্ধন করা হবে না বলেও জানানো হয়। বাবাহীন অসহায় ওই নারীর পক্ষে টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় বিয়ের সম্পর্ক অস্বীকার করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

 

মামলায় আরও বলা হয়েছে, স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে ওই নারীর নামে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। অথচ এখন বিয়ের নিবন্ধিত কোনো দলিল না থাকার সুযোগে সম্পর্ক অস্বীকার করছেন বলে অভিযোগ তাঁর।

 

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘চার বছর ধরে তিনি আমার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক রেখেছেন। এখন আমি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু তিনি বলছেন, আমার গর্ভের সন্তান তাঁর নয়। আর কিছুদিনের মধ্যে আমার সন্তান হবে। কী পরিচয়ে আমার সন্তান বড় হবে? আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে চার বছর আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। এখন সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় হয়েছে, অথচ বলছেন সন্তান তাঁর নয়।’

 

বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু বলেন, একজন নারী বিশ্বাসের সম্পর্কের মধ্যে থেকে সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর সেই সন্তানকে অস্বীকার করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪১:০৩ ● ৩২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ