
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে বরগুনার সদর, পাথরঘাটা ও তালতলীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বরগুনা সদর রোড, পাথরঘাটার সোনালী বাজার ও তালতলীর শুভসন্ধ্যা এলাকায় একযোগে এ কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা।
‘গ্লোবাল উইক অব অ্যাকশন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও আসন্ন কপ সম্মেলনকে সামনে রেখে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও এ খাতে অর্থায়ন অব্যাহত রয়েছে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর প্রয়োজন।
তারা জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত, ন্যায্য ও অর্থায়নকৃত জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়নের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, আলোর পথিক যুবক ক্লাব, বিডি ক্লিন ও সাইক্লিং কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন প্রচারাভিযান চালানো হয় এবং পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
বরগুনা সদর রোডের মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ধরা বরগুনা শাখার সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম নেছার, সদস্য সচিব মুশফিক আরিফ, কালমেঘা মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সমাজকর্মী আব্দুল মান্নান চুন্নু, বরগুনা টিআইবির অ্যাক্টিভ সিটিজেন গ্রুপের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সোহেল, ধরা তালতলী উপজেলা সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, ধরা পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়ক শফিকুল ইসলাম খোকন, ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি অলিউল্লাহ আল আমিন ও আলোর পথিক যুবক ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান সাবুসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা আরও বলেন, জ্বালানি রূপান্তর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা জড়িত। তাই জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের অধিকার ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।