দুমকির বাহেরচরে নতুন করে ২০ পরিবার নিঃস্ব, রাস্তার পাশে আশ্রয়

হোম » পটুয়াখালী » দুমকির বাহেরচরে নতুন করে ২০ পরিবার নিঃস্ব, রাস্তার পাশে আশ্রয়
বুধবার ● ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

দুমকির বাহেরচরে নতুন করে ২০ পরিবার নিঃস্ব, রাস্তার পাশে আশ্রয়

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দুমকি (পটুয়াখালী)

 

পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে নতুন করে অন্তত ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। সর্বস্ব হারানো এসব পরিবার এখন সরকারি রাস্তার পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ নিয়ে গ্রামটিতে দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

 

ভাঙন অব্যাহত থাকায় ৩২ নম্বর আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়িসহ আরও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, বাহেরচরে নদীভাঙন দীর্ঘদিনের। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত ঘরবাড়ি সরিয়ে নতুন করে বসতি গড়েছে। এখন আর অনেকেরই বসত করার মতো জমি নেই। ফলে বাধ্য হয়ে কেউ রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। অধিকাংশ পরিবারই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

 

সরেজমিনে কথা হয় ভুক্তভোগী নিটুলী রানীর সঙ্গে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সর্বশেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে বিলীন হওয়ায় এখন রাস্তার পাশে থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আর যাওয়ার কোনো জায়গা নাই, সব নদীতে গেছে।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির খান (৫০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক মানুষ আইছে, অনেক কথা কইছি, কিন্তু কোনো কাজ হয় নাই। কেউ আমাগো দিকটা দেখে না।’

 

রিপন মাল (৩৭) বলেন, বাপ-দাদার সময় থেকেই এখানে ভাঙন চলছে। জীবনে পাঁচ-ছয়বার ঘর সরিয়েছেন। এখন বাধ্য হয়ে বাজারে ভাড়া বাসায় থাকছেন।

 

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদার দাবি করেন, এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর ওপারে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাকেরগঞ্জের লোকজন তা দখল করে রাখায় তাদের কেউ সেই জমি পাননি।

 

ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার বলেন, ‘বারবার ভাঙনে এখন আমাদের কিছুই নাই। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর থাকতে হচ্ছে।’ তিনি দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানান।

 

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনে তাঁর ওয়ার্ড প্রায় বিলুপ্তির পথে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

ইউপি চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাহেরচর গ্রাম রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

 

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বাহেরচর গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। এতে আরও শতাধিক পরিবার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:২২:০৮ ● ১৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ