নাজিরপুরে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার বসতভিটা দখলচেষ্টার অভিযোগ

হোম » পিরোজপুর » নাজিরপুরে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার বসতভিটা দখলচেষ্টার অভিযোগ
বৃহস্পতিবার ● ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নাজিরপুরে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার বসতভিটা দখলচেষ্টার অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নাজিরপুর (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মালিখালি ইউনিয়নের সাঁচিয়া গ্রামে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্টু বিশ্বাসের বসতবাড়ি ও জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। অমর বিশ্বাস ও তার ছেলে সুমিত বিশ্বাসসহ স্থানীয় কিছু লোকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সুবালা বিশ্বাস।

সরেজমিনে গেলে সুবালা বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্টু বিশ্বাস ১৯ শতাংশ জমির ওপর সরকারি বরাদ্দে পাওয়া ‘বীর নিবাস’ ঘরে বসবাস করতেন। কিছুদিন আগে চার কন্যাসন্তান রেখে তিনি মারা যান। তাঁদের ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী।

সুবালা বিশ্বাস বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর অমর বিশ্বাস, তাঁর ছেলে সুমিত বিশ্বাস ও স্থানীয় কিছু লোকজন তাঁদের ওপর অত্যাচার শুরু করেছেন। স্বামী জীবিত থাকাকালেও তাঁদের ওপর অত্যাচার করা হতো। তবে তাঁর মৃত্যুর পর এর মাত্রা বেড়েছে। প্রায়ই বহিরাগত লোকজন এনে বসতবাড়ির জায়গা দখল ও গাছপালা কেটে ফেলার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ের জামাতাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে ঘরের আশপাশের কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া রাতের বেলা বাড়ির জানালা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

সুবালা বিশ্বাস বলেন, যে দেশের জন্য আমার স্বামী জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, আজ সেই দেশে নিজের ভিটায় বসবাস করেও আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জালিয়াত চক্র আমার বসতভিটা দখলের পাঁয়তারা করছে। তাদের অপতৎপরতার কারণে চরম শঙ্কায় আছি। তাই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্টু বিশ্বাস ভালো মানুষ ছিলেন। সরকারি বরাদ্দে ‘বীর নিবাস’ ঘর পেয়ে চার কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বসবাস করতেন। কিছুদিন আগে তিনি মারা যান। তাঁর কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় ছোট মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর স্ত্রী সুবালা বিশ্বাস, মেয়ে ও জামাইকে নিয়ে ওই ঘরে বসবাস করছেন।

প্রতিবেশীদের অভিযোগ, অমর বিশ্বাস ও তাঁর ছেলে সুমিত বিশ্বাসের অত্যাচারে পরিবারটি অতিষ্ঠ। বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং বাড়ি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে রাতে জানালা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে পরিবারটি চরম শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে তাঁরা জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অমর বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমরা নিরীহ। কারও ওপর জুলুম করিনি। আমার পরিবারে তিনজন লোক। আমার পেছনে কোনো লোকজন নেই। এই এলাকায় কেউ বলতে পারবে না যে আমরা তাদের ওপর জুলুম করি। আমরা নিরীহভাবে বসবাস করছি। তাঁদের অভিযোগ মিথ্যা।

অমর বিশ্বাস আরও বলেন, বরং আমরা তাঁদের অত্যাচারে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছি। আমার ঘরের সঙ্গে তাঁদের পায়খানা। পায়খানার দুর্গন্ধে ঘরে বসবাস করা যায় না। লোকজনকে দেখালে বলে, আমরা সরিয়ে দেব। কিন্তু তারা সরায় না। এছাড়া তাঁর দেবর বলে, পায়খানার দুর্গন্ধ যদি সহ্য করতে না পারো, তাহলে বাড়ি থেকে চলে যাও।

জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, যে জায়গা নিয়ে কথা হয়েছে, সেখান থেকে দুই শতাংশ জায়গা আমি তাঁকে বদল করে দিয়েছি। তারপরও তারা মামলাও করেছে।

এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এএ/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৫:৫৯ ● ৩৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ