ঝালকাঠিতে ৩ লাখ টাকার দলিলে ৩৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এমপি

হোম » ঝালকাঠী » ঝালকাঠিতে ৩ লাখ টাকার দলিলে ৩৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এমপি
বৃহস্পতিবার ● ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঝালকাঠিতে ৩ লাখ টাকার দলিলে ৩৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এমপি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, রাজাপুর (ঝালকাঠি)

ঝালকাঠির রাজাপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ৩ লাখ টাকা মূল্যের জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনে ৩৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অফিস পরিদর্শনে গিয়ে এ অভিযোগ শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি এ বিষয়ে সাবরেজিস্টারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

একই সঙ্গে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না নিতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন তিনি। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনিয়মে জড়িত থাকলে তথ্য-প্রমাণসহ কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতিও আহ্বান জানান সংসদ সদস্য।

অভিযোগকারী দলিল গ্রহীতারা জানান, নারিকেলবাড়িয়া এলাকার লোকমান হোসেন ও আব্দুস সোবহান ১০ শতাংশ বাড়ির জমি ৩ লাখ টাকায় কিনে দলিল করেন। জমির দাতা আরিফুর রহমান। এ দলিলের বিভিন্ন খরচ বাবদ তাঁদের কাছ থেকে মোট ৩৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

দলিল লেখক আলকাছ হোসেন জানান, ওই দলিলের রেজিস্ট্রেশন ফি ২২ হাজার ৫০০ টাকা, এনফিস ৭০০ টাকা, ভ্যাট ২৩২ টাকা, হলফনামা স্ট্যাম্প ৩৫০ টাকা, দলিল স্ট্যাম্প ৩০০ টাকা, পর্চা সংগ্রহ ৩০০ টাকা, দুটি দলিলের নকল সংগ্রহ বাবদ ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং যাতায়াত খরচ ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দলিল কম্পোজ বাবদ ৫০০ টাকা, ১০ বছরের দাখিলা বাবদ ৬ হাজার টাকা এবং মহুরি ফি বাবদ ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগ শুনে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে চান এবং সাবরেজিস্টারের কাছে এর ব্যাখ্যা চান। তিনি বলেন, রাজাপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। দলীয় পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম করার সুযোগ নেই।

রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে সাধারণ মানুষ হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।

রাজাপুর সাবরেজিস্টার মেহেদি হাসান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি পরবর্তীতে খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সংসদ সদস্যের পরিদর্শনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তাঁদের অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রেশনের বিভিন্ন ধাপ ও খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে কি না, অনেকেই তা বুঝতে পারেন না। এ কারণে সরকারি নির্ধারিত ফি ও অন্যান্য বৈধ খরচের তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শনের দাবি জানান তাঁরা।


আরআর/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৩৪:৫৮ ● ১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ