
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং শিক্ষকদের ফাইল ছাড়াতে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তা ধামাচাপা দিতে শিক্ষকদের একাংশকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করানোর অভিযোগ করেছেন উপজেলার সাধারণ শিক্ষকরা।
এর প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বুধবার চরফ্যাশন প্রাথমিক শিক্ষা সমাজের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া অভিযোগের বরাত দিয়ে বলা হয়, চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ফাইল আটকে রেখে টাকা আদায়ের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য বরাদ্দ করা ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দ করা ৮৪ হাজার টাকা মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে ব্যয় না করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলার ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনী কেন্দ্র সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ছাড় করতে বিদ্যালয়প্রতি ৯ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ডিভাইস কেনার ৯০ হাজার টাকা কোনো যন্ত্রাংশ না কিনেই উত্তোলন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে ওয়াই-ফাই সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া বিলের মাধ্যমে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার দাবিও করেছেন অভিযোগকারীরা।
শিক্ষকদের সুবিধাজনক স্থানে বদলি এবং প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্বে পদায়নের জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
শিক্ষা অফিসের কথিত ‘কমিশন’ বাণিজ্য নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষকদের একটি অংশকে চাপ প্রয়োগ করে শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করানো হয়েছে বলে দাবি করেন সাধারণ শিক্ষকরা।
এর প্রতিবাদে বুধবার সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা জরুরি সভা ও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা দাবি করেন, শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে যারা বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ শিক্ষা অফিসের কথিত অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত অথবা সংশ্লিষ্ট চক্রের অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা দ্রুত ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও তাঁর সহযোগী অফিসকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার দাবি জানান।
তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত শুরু করে অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করা না হলে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।