
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে ২০ জন শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় কলেজের একটি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় অভিভাবকেরা এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিনসহ অন্যরা অভিযোগ করেন, সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষর জাল করে এবং রেজুলেশন বই গায়েব করে ওই ২০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর ২০১৫ সাল পর্যন্ত ২৯ জন শিক্ষক নিয়মিত ভাতা পেয়ে আসছিলেন। বর্তমান অধ্যক্ষ ওই শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন করে নারী শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউনুচ মৃধা বলেন, ‘২০২০ সালের করোনাকালীন ভাতা পাওয়া ২৯ জন শিক্ষকই শিক্ষকের পদে বৈধ। তবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা করোনাকালীন সময়ে কলেজে আসেননি।’
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ২০১৮ সালে আবদুল মালেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। পরে তিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ম্যানেজ করে তিনি আবার চাকরিতে ফিরে আসেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া কলেজের গভর্নিং বডি গঠনেও অধ্যক্ষ স্বেচ্ছাচারিতা করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে তিনি নিজের মতো করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ আবদুল মালেক। তিনি বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের দেওয়া শিক্ষকদের নিয়োগ আইনসম্মত। সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়।
রেজুলেশন বই হারিয়ে যাওয়ার কারণে নতুন বই কেনা হয়েছে বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ।
এদিকে এমপিওভুক্তির তালিকায় থাকা ২০ জনের নাম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে বলে সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমান অধ্যক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।