কুয়াকাটায় সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলা: মামলায় গ্রেপ্তার ২

হোম » গণমাধ্যম » কুয়াকাটায় সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলা: মামলায় গ্রেপ্তার ২
মঙ্গলবার ● ২৮ জুলাই ২০২৬


 

কুয়াকাটায় সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলা: মামলায় গ্রেপ্তার ২

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।

 

সোমবার রাতে কুয়াকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শহিদ সিকদার (ওরফে পচা শহিদ) এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সহসভাপতি নাসির হাওলাদার। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকতসংলগ্ন এলাকায় একদল ব্যক্তি সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালায়। এতে তার মাথা ও দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

পরিবারের দাবি, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক হোটেল কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ এবং বিভিন্ন সময় অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি জমি থেকে গাছ কাটার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নারী-সংক্রান্ত ঘটনার প্রতিবাদ জানানোয় সাংবাদিক কে এম বাচ্চুকে বিভিন্ন সময় হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।

 

মামলায় কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বায়েজিদ শিকদার রানা, পৌর যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শহিদ সিকদার, পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুন মুসল্লিসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে জেলা কমিটি না থাকায় স্থানীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

 

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম হাওলাদার বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৩:১১:২৪ ● ৫১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ