আমতলীতে ধানের বীজে প্রতারণার অভিযোগ, ফলন না আসায় বিপাকে কৃষক

হোম » কৃষি » আমতলীতে ধানের বীজে প্রতারণার অভিযোগ, ফলন না আসায় বিপাকে কৃষক
শুক্রবার ● ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

আমতলীতে ধানের বীজে প্রতারণার অভিযোগ, ফলন না আসায় বিপাকে কৃষক

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

 

বরগুনার আমতলী উপজেলার ছুরিকাটা এলাকায় ব্রি-৯৮ জাতের ধানের বীজ কিনে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দুই শতাধিক কৃষক। বীজ রোপণের প্রায় পাঁচ মাস পরও কাঙ্ক্ষিত ফলন না আসায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তাঁরা। আউশ মৌসুমের পর একই জমিতে আমন চাষ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার ব্রি-৯৮ জাতের নামে অন্য জাতের ধান বিক্রি করেছেন। তাঁরা ডিলারের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ছুরিকাটা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ধানের গোছা হাতে নিয়ে এসব অভিযোগ করেন।

 

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছুরিকাটা এলাকার দুই শতাধিক কৃষক গত এপ্রিল মাসে আউশ মৌসুমে ব্রি-৯৮ জাতের ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেন। পরে আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে তাঁরা ব্রি-৯৮ জাতের ধানের বীজ কেনেন। ওই বীজ দিয়ে চারা তৈরি করে জমিতে রোপণ করেন তাঁরা।

 

কৃষকদের দাবি, ব্রি-৯৮ জাতের ধান সাধারণত ১১০ দিনে কাটার উপযোগী হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও অধিকাংশ জমিতে কাঙ্ক্ষিত ফলন আসেনি। এতে কৃষকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি জানতে ডিলার খালেক হাওলাদারের কাছে গেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন কৃষকেরা।

 

কৃষকদের অভিযোগ, ধারদেনা করে তাঁরা জমি চাষ করেছেন। কিন্তু ধানে ফলন না আসায় তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

 

কৃষকেরা আরও জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসে বীজতলা তৈরি করে ধান রোপণ করা হলে ভাদ্র মাসের মধ্যে আউশ ধান কাটার উপযোগী হওয়ার কথা। এরপর একই জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়। কিন্তু ব্রি-৯৮ হিসেবে কেনা ধানে নির্ধারিত সময়ে ফলন না আসায় এবার আমন চাষও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

 

কৃষক মো. দুলাল হাওলাদার বলেন, ‘আমি ৮ একর জমিতে ব্রি-৯৮ ধানের চারা রোপণ করেছি। কিন্তু ওই ধানে কাঙ্ক্ষিত ফলন আসেনি। এখন আমন ধান চাষ করার অবস্থাও নেই। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছি। এখন পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।’

 

কৃষক দেলোয়ার গাজী সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মোরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। মোরা কী খামু, কইতে পারি না। মোরা ডিলার খালেক হাওলাদারের শাস্তি দাবি হরছি।’

 

কৃষক মো. রনি আহমেদ বলেন, ‘ব্রি-৯৮ ধান রোপণ করে এলাকার দুই শতাধিক কৃষক নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখন কৃষকদের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।’

 

কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘কৃষিই আমার মূল পেশা। ধান চাষের আয় দিয়ে সারা বছর পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করতে হয়। সেই ধান হয়নি। এখন কী করব, ভেবে পাচ্ছি না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আউশ-আমন দুই মৌসুমে ধান চাষ করি। কিন্তু এ বছর কোনো মৌসুমেই ধান হবে না।’

 

অভিযোগের বিষয়ে বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার কৃষকদের কাছে ব্রি-৯৮ জাতের ধান বিক্রির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আয়ান সিডের মোড়কে আমি অন্য কোনো জাতের ধান প্যাকেটজাত করিনি। কোম্পানি যেভাবে দিয়েছে, আমি সেভাবেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছি।’

 

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা সরেজমিনে বিষয়টি দেখতে আসবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিলার বিধি ভঙ্গ করে বীজ বিক্রি করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩৯:০৯ ● ২২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ