
সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক
রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারের অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্র। বছরের ৩৬৫ দিনই এটি বিরামহীনভাবে চলে। তবে নিয়মিত পরিষ্কার ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ফ্রিজে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে, খাবার দ্রুত নষ্ট হতে পারে এবং কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে ফ্রিজের যত্ন নিলে এর কার্যক্ষমতা দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং খাবারের পুষ্টিগুণও বজায় থাকে। নিচে ফ্রিজের যত্ন নেওয়ার ৮টি সহজ উপায় তুলে ধরা হলো-
১. সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখুন
ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে এবং ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা উচিত। এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমে এবং খাবার দীর্ঘদিন নিরাপদ থাকে।
২. অতিরিক্ত ভর্তি বা একেবারে খালি রাখবেন না
ফ্রিজে অতিরিক্ত খাবার রাখলে ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না। আবার একেবারে খালি থাকলেও তাপমাত্রা ধরে রাখতে কম্প্রেসরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই ভেতরের অন্তত ২০ শতাংশ জায়গা খালি রাখার চেষ্টা করুন।
৩. কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার করুন
ফ্রিজের পেছনে বা নিচে থাকা কনডেন্সার কয়েলে ধুলা জমলে ঠান্ডা করার ক্ষমতা কমে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে। বছরে অন্তত দুবার নরম ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে এটি পরিষ্কার করুন।
৪. গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না
রান্না করা গরম খাবার কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর ফ্রিজে রাখুন। গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ফলে অন্যান্য খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং বিদ্যুৎও বেশি খরচ হয়।
৫. দরজার রাবার (গ্যাসকেট) পরীক্ষা করুন
ফ্রিজের দরজার রাবার আলগা বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যায়। একটি কাগজ দরজার ফাঁকে রেখে দরজা বন্ধ করুন। কাগজটি সহজে বের হয়ে এলে বুঝতে হবে গ্যাসকেট পরিবর্তনের সময় হয়েছে।
৬. প্রাকৃতিক উপায়ে দুর্গন্ধ দূর করুন
ফ্রিজে রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার না করে একটি ছোট বাটিতে বেকিং সোডা বা কয়েক টুকরো কাঠকয়লা রেখে দিন। এগুলো দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে। চাইলে লেবুর রস দিয়ে ভেতরটা মুছলেও সতেজ গন্ধ থাকবে।
৭. দেয়াল থেকে কিছুটা দূরে রাখুন
ফ্রিজের পেছনে ও দুই পাশে অন্তত ১ থেকে ২ ইঞ্চি ফাঁকা জায়গা রাখুন। এতে কম্প্রেসরের তাপ সহজে বের হতে পারে এবং যন্ত্রের আয়ু বাড়ে।
৮. নিয়মিত পরিষ্কার ও ডিফ্রোস্ট করুন
যদি ফ্রিজটি নন-ফ্রস্ট না হয়, তবে বরফ আধা ইঞ্চি পুরু হলে ডিফ্রোস্ট করুন। বরফ কাটতে কখনোই ছুরি বা ধারালো বস্তু ব্যবহার করবেন না। এছাড়া প্রতি মাসে একবার প্লাগ খুলে তাকগুলো বের করে কুসুম গরম পানি ও তরল সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন।
মনে রাখবেন, নিয়মিত পরিচর্যা শুধু ফ্রিজের আয়ুই বাড়ায় না, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে এবং পরিবারের খাবারও দীর্ঘসময় নিরাপদ ও সতেজ রাখে।