
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিনতলা স্লুইসগেট এলাকায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে একটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় পার্শ্ববর্তী পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. আমিনুল বিশ্বাস।
গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার মো. রিফাত বিশ্বাস, নেছার খান ও জসিম ফরাজী।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের পর থেকে আমিনুল বিশ্বাসের পরিবার জসিম ফরাজীর বাড়ির পাশ দিয়ে একটি ছোট রাস্তা ব্যবহার করে আসছিল। পারিবারিক বিরোধের জেরে ওই রাস্তার ওপর টয়লেট নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে গত ৯ মে ২০২৫ সালে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে আমিনুলের পরিবারের চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়। সালিশের রোয়েদাদ অনুযায়ী, আমিনুল বিশ্বাসের চলাচলের রাস্তার জন্য মো. মইনুল হককে দুই শতাংশ জমি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, পরে রিফাত বিশ্বাস নতুন করে জমি মাপজোক করে ওই চলাচলের রাস্তা নিজের জমির মধ্যে পড়েছে দাবি করে রাস্তা কেটে সমতল জমিতে পরিণত করেন। সেখানে চাষাবাদ ও কলাগাছ রোপণ করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে আমিনুল বিশ্বাসের পরিবারের বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে পরিবারটির সদস্যদের মইনুলের বাড়ির ওপর দিয়ে, টয়লেটের পাশ দিয়ে ও পুকুরপাড় হয়ে কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পুনরায় সালিশ বৈঠক হলেও চূড়ান্তভাবে জমি মাপজোক না হওয়ায় এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
ভুক্তভোগী মো. আমিনুল বিশ্বাস বলেন, চলাচলের পথ ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি চরকাজল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত রিফাত বিশ্বাসের শ্বশুর নেছার খান বলেন, ‘কাগজপত্রে যদি তারা জমি পান, তাহলে তাদের জমি দিয়ে দেওয়া হবে। আমরা তাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করিনি। নিজেদের জমি ধান চাষের জন্য প্রস্তুত করেছি, এর বেশি কিছু নয়। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো ঝামেলা নেই।’
এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আমিনুল হাওলাদার বলেন, ‘আমিনুলের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে লোকমুখে শুনেছি। তবে আমিনুলের চলাচলের পথের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’