বরগুনায় ১১ কোটি টাকার ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ

হোম » বরগুনা » বরগুনায় ১১ কোটি টাকার ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ
বুধবার ● ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

বরগুনায় ১১ কোটি টাকার ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রীর অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

বরগুনা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মাণাধীন সাততলা একাডেমিক ভবনের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ইট, ভাঙা ইটের খোয়া ও মিহি বালু ব্যবহারের পাশাপাশি রডের কভার, বাঁধাই ও শাটারিংয়েও যথাযথ মান অনুসরণ না করার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল প্রকৌশলীদের উপস্থিতি ছাড়াই ঢালাইয়ের কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বরগুনা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কাজটি করছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভবনটির চুক্তিমূল্য ১১ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৫০ টাকা। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজের মেয়াদ ৫৪০ দিন।

সরেজমিনে বরগুনার ইটবাড়িয়ার নির্মাণস্থলে বিভিন্ন মানের ইটের স্তূপ দেখা যায়। এর মধ্যে কিছু ইট ভঙ্গুর ও অতিরিক্ত পোড়ানো। নির্মাণস্থলে ভাঙা ইটের খোয়া ও মিহি লালচে বালুও মজুত রয়েছে। তবে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষার বিষয়ে সাইটে দৃশ্যমান কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া রডের নির্ধারিত দূরত্ব ও কভার ঠিক না রাখা এবং শাটারিং যথাযথভাবে শক্ত না করার অভিযোগ রয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীরা কাজ চলমান অবস্থায় নির্মাণস্থলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পাননি।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্মাণকাজ নিয়মিত তদারকির মতো জনবল তাদের নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সরকারি ছুটির দিনেও ঢালাইয়ের কাজ করেন। বিষয়টি নিয়ে নিষেধ করা হলেও তারা তা আমলে নিচ্ছেন না। নির্মাণকাজে যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারকি প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, নির্মাণসামগ্রীর মান শুধু চোখে দেখে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা এবং নির্মাণের প্রতিটি ধাপে প্রকৌশলীদের তদারকি জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে বরগুনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইশা বলেন, ‘আমার জানা মতে কাজ সঠিকভাবেই চলছে। আমি নিয়মিত কাজ দেখাশোনা করি।’

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৫:৪৭ ● ১৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ