সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের গৌরনদী অংশে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা, তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের প্রতিবাদে এবং মহাসড়কটি দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে বরিশালের গৌরনদীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের পর উপজেলার ভুরঘাটা বর্ডার থেকে ইল্লা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী মো. এমদাদ শিকদার বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক এখনো দুই লেনের সীমাবদ্ধতায় রয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অপরিকল্পিত সংযোগ সড়ক এবং সংকীর্ণ মহাসড়কের কারণে প্রায়ই ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা এনাম তালুকদার বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে গৌরনদীর ভুরঘাটা, দক্ষিণ পালরদী, মদিনা স্ট্যান্ড, বার্থী, আশোকাঠী, কটকস্থল, বাটাজোড় ও খাঞ্জাপুর এলাকায় একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এর মধ্যে গত ২৩ জুন খাঞ্জাপুর বটতলা এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কুয়েতপ্রবাসী সোহেল ফকির (২৪) একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় নিহত হন। বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি কয়েকদিন আগে দেশে ফিরেছিলেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোকের সৃষ্টি করে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে।
এ ছাড়া সম্প্রতি খাঞ্জাপুর এলাকায় ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত চারজন আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী আশরাফুল আলম ছোটন বলেন, ৬ লেন মহাসড়ক এখন সময়ের দাবি। তবে শুধু রাস্তা প্রশস্ত করলেই দুর্ঘটনা পুরোপুরি কমবে না। দক্ষ চালক, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের ফিটনেস, আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে।
নিয়মিত এই মহাসড়কে চলাচলকারী মো. বাপ্পি বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে, কিন্তু রাস্তার প্রশস্ততা বাড়েনি। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
পিকআপচালক বাবু মৃধা বলেন, ভারী যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অনেক সময় সেগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে ছোট যানবাহনের চালকদের সবসময় জীবন হাতে নিয়ে চলতে হয়।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রদক্ষিণ করে ৬-লেন মহাসড়ক নির্মাণের দাবিতে স্লোগান দেয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও পর্যটনের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। অথচ গৌরনদী অংশের বর্তমান অবস্থা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
তারা অবিলম্বে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, চালকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কারের জন্য দাবি জানান।