বাকেরগঞ্জে বিস্ফোরণে দগ্ধ নারী ৯ দিন পর ঢাকায় মারা গেছেন

হোম » লিড নিউজ » বাকেরগঞ্জে বিস্ফোরণে দগ্ধ নারী ৯ দিন পর ঢাকায় মারা গেছেন
বুধবার ● ১২ আগস্ট ২০২৬


 

বাকেরগঞ্জে বিস্ফোরণে দগ্ধ নারী ৯ দিন পর ঢাকায় মারা গেছেন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল)

 

বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রত্যন্ত গ্রামে বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগম (৫০) মারা গেছেন। বিস্ফোরণের নয় দিন পর বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

 

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বুধবার রাত ৯টার দিকে হনুফা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

 

নিহত হনুফা বেগম উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী প্রয়াত শাহ আলম হাওলাদার। গত ৩ আগস্ট ভোরে তাঁদের বাড়ির উঠানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণে হনুফা বেগম, তাঁর মেয়ে ইতি আক্তার (১৮) ও নাতি ফাহিম (১৫) দগ্ধ হন। ফাহিমের শারীরিক অবস্থা এখনো গুরুতর বলে জানিয়েছে পরিবার।

 

নিহত হনুফা বেগমের ছোট ছেলে জামাল হোসেন হাওলাদার মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বুধবার রাত ১০টার দিকে তিনি বলেন, ‘আমার মায় নাই, বুঝতেও পারি নাই, আমার মায় এইভাবে আমাগো ছাইড়্যা চইল্লা যাইবে। বাপ নাই, মায়ের মুখের দিকে চাইয়্যা আমরা ভরসা পাইতাম। এহন হ্যায় শ্যাষ।’

 

জামাল হোসেন জানান, তাঁর বড় ভাই কামাল হোসেন ঢাকায় মা, বোন ও ভাগনের চিকিৎসার জন্য সঙ্গে ছিলেন। ছোট বোন ইতির শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে থাকলেও ভাগনের অবস্থা এখনো ভালো নয়।

 

বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, হনুফা বেগমের জামাতা সুজনের কাছ থেকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। বুধবার বিকেলে ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

 

জেলা প্রশাসক বলেন, আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পর থেকেই জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন তাঁদের চিকিৎসার বিষয়টি তদারক করে আসছে। আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। একই সঙ্গে নিহত হনুফা বেগমের মরদেহ ঢাকাসহ বরিশালে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় খরচও প্রশাসন বহন করবে।

 

যেভাবে ঘটে বিস্ফোরণ

 

বিস্ফোরণে আহত ইতি আক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ৩ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে বাড়ির উঠানে তিনি ভাগনে ফাহিমকে ব্যায়াম করাচ্ছিলেন। এ সময় একটি দড়ির সঙ্গে বাঁধা তিনটি লাল রঙের চিপসের প্যাকেট দেখতে পান। কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, দড়ির অন্য পাশে একটি কাপড়ের শপিং ব্যাগ বাঁধা। বিষয়টি কী, তা দেখার চেষ্টা করার সময় আগের রাতের বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত উঠানে তাঁর পা পিছলে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তাঁর পায়ে আগুন ধরে যায় এবং পাশে থাকা মা ও ভাগনের শরীরেও আগুন লাগে। পরে আতঙ্কে তাঁরা পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন।

 

বিস্ফোরণের পর ঢাকা থেকে যাওয়া পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের প্রাথমিক তদন্তে এতে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। বিস্ফোরকটি সক্রিয় করতে ‘বুবি ট্র্যাপ’ বা বিস্ফোরণ ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।

 

গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

 

এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। নিহত হনুফা বেগমের ছেলে জামাল হোসেন বাদী হয়ে ৪ আগস্ট বাকেরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।

 

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে জানান, মামলায় এখনো কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৯:১৮ ● ২০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ