মাদক মামলার আসামিকে ফুলের মালায় বরণ, বিএনপি নেতাকে ঘিরে সমালোচনা

হোম » পটুয়াখালী » মাদক মামলার আসামিকে ফুলের মালায় বরণ, বিএনপি নেতাকে ঘিরে সমালোচনা
মঙ্গলবার ● ১১ আগস্ট ২০২৬


 

মাদক মামলার আসামিকে ফুলের মালায় বরণ, বিএনপি নেতাকে ঘিরে সমালোচনা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

 

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়া এক আসামিকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করেছেন কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ মৃধা। এ ঘটনায় আসামি ও বিএনপি নেতার গলায় ফুলের মালা পরানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের শিংবাড়ী এলাকায়। মাদক মামলার আসামিকে রাজনৈতিক ব্যানারে ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

পটুয়াখালী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. রাকিবুল ইসলাম রাসেল জানান, মাদক বেচাকেনার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৩ জুলাই রাতে কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল। এ সময় আবদুর রহিম মিয়ার বাড়ি থেকে ২৫টি ইয়াবাসহ তাঁর ছেলে মো. আবুল বাশারকে আটক করা হয়।

 

পরদিন ১৪ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। পরে তাঁকে মির্জাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হলে আদালতের মাধ্যমে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানো হয়।

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সোমবার (১০ আগস্ট) আদালত থেকে জামিন পান আবুল বাশার। ওই দিন বিকেলে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে সুবিদখালী থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে তাঁকে এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর শিংবাড়ী এলাকায় তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয় বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।

 

কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ইউনিয়ন সভাপতি সেখানে উপস্থিত থেকে ফুলের মালা দিয়েছেন। রাজনৈতিক ব্যানারে এমন সংবর্ধনা দেওয়া উচিত হয়নি। সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া অনেকেই ইউনিয়ন ও উপজেলার বাইরের কাজীরাবাদ, আয়লাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন। তাঁদের আমি আগে কখনো দেখিনি। বিষয়টি ইউনিয়ন সভাপতি কীভাবে বা কী হিসেবে করেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।’

 

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ মৃধা বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে বাশারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। দলীয় গ্রুপিংয়ের শিকার হয়ে সে ওই মামলায় আটক হয়েছে। প্রতিপক্ষরা ইয়াবা দিয়ে বাশারকে ধরিয়েছে। সেই মামলায় জামিন পাওয়ায় আমি তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেছি। পরে আমাকেও ফুল দেওয়া হয়েছে।’

 

এদিকে, ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে দলের ঘোষিত কঠোর অবস্থানের মধ্যে মাদক মামলার আসামিকে এভাবে ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি দলীয়ভাবে বিবেচনা করা উচিত ছিল বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৫:২০ ● ২১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ