
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
বেঁচে থাকার জন্য নিজের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হারিয়েছেন মাহেব চৌকিদার (৫৫)। ক্যান্সারের চিকিৎসায় শেষ সম্বল অটোরিকশা, গরু-ছাগল বিক্রি করেছেন। ধারদেনাও করেছেন। এখন চিকিৎসা চালানোর মতো টাকা নেই, ঘরে খাবারও জোটে না ঠিকমতো।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণ চরখালী গ্রামের এই মানুষটির এখন একটাই আকুতি- তিনি বাঁচতে চান।
২০২৪ সালে মাহেবের পুরুষাঙ্গে একটি ছোট ঘা দেখা দেয়। প্রথমে সাধারণ চর্মরোগ মনে করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। পরে পটুয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসকের কাছে ঘুরেও সুস্থ হননি। বরং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ক্ষত ও যন্ত্রণা।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনতে চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসার খরচ জোগাতে একে একে নিজের উপার্জনের একমাত্র অটোরিকশা, গরু ও ছাগল বিক্রি করেন মাহেব। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও ধারদেনা করেন।
কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে চিকিৎসকেরা জানান, জীবন বাঁচাতে তার পুরুষাঙ্গ অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করতে হবে।
গত ২৭ আগস্ট সেই অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রাণে বেঁচে গেলেও মাহেব এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন। সামনে রয়েছে কেমোথেরাপি, নিয়মিত পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ। অথচ তার হাতে এখন চিকিৎসা চালানোর মতো কোনো অর্থ নেই।
মাহেবের জীবনে অভাব নতুন কিছু নয়। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মৃত কালাই চৌকিদারের ছেলে তিনি। ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারান। বড় ভাইয়ের সঙ্গে গলাচিপায় এসে শুরু হয় তার সংগ্রামী জীবন। কখনো খাবারের হোটেলে কাজ করেছেন, কখনো রিকশা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন।
প্রায় ৩৫ বছর আগে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরখালী গ্রামের মৃত রশিদ সিকদারের মেয়ে রাশিদা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের চার মেয়ে ও এক ছেলে। তিন মেয়ে ও ছেলের বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্টে। ছোট মেয়েটি স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।
এই মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই এখনো মাহেবের বড় স্বপ্ন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি নিজেই শয্যাশায়ী। সংসারের আয় বন্ধ। চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা, পরিবারের নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাহেব চৌকিদার বলেন, ‘দেহের একটি অঙ্গ হারিয়েছি। চিকিৎসার জন্য অটোরিকশা, গরু-ছাগল সব বিক্রি করেছি। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও ধার করেছি। এখন চিকিৎসা চালানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। আমি তিলে তিলে মরতে চাই না। আরও কিছুদিন বাঁচতে চাই। আমার ছোট মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে সমাজের মানুষের কাছে সাহায্য চাই।’
মাহেবের পরিবার জানিয়েছে, তার পরবর্তী চিকিৎসা, কেমোথেরাপি, পরীক্ষা ও ওষুধের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। পরিবারটির দাবি, সমাজের বিত্তবান মানুষ, সমাজসেবী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।