
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
কলাপাড়া পৌরসভা এবং এর আওতাধীন সব সরকারি স্থাপনা ও জনসেবামূলক অবকাঠামোকে শতভাগ ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুতের আওতায় এনে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনির্ভর নগর গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে কলাপাড়া পৌরসভা চত্বরে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রান্তজন ট্রাস্ট, ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফইডি) বরিশাল, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবেশকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে কলাপাড়া পৌর প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পৌর প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্য লাল চক্রবর্তী।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-পটুয়াখালীর আহ্বায়ক অমল মুখার্জি। বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম, সদস্য মেজবাহউদ্দিন মান্নান, নুরুল হক, নাজমুস সাকিব, এসএসডিপির নির্বাহী পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান এবং প্রান্তজন ট্রাস্টের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদ।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কলাপাড়া পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড, যাত্রীছাউনি, পার্ক, লেকের ওয়াকওয়ে, বিভিন্ন ভবনের ছাদসহ জনসেবামূলক অবকাঠামোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে পৌরসভার নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তারা আরও বলেন, পৌরসভার প্রশাসনিক ভবনসহ সরকারি স্থাপনাগুলোতে রুফটপ সোলার স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে নেট মিটারিং সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎপাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
বক্তাদের দাবি, দ্রুত একটি সমন্বিত ‘পৌরসভা সোলার কর্মপরিকল্পনা’ গ্রহণ করে কলাপাড়া পৌরসভার সব উপযুক্ত সরকারি স্থাপনা ও জনসেবামূলক অবকাঠামোকে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হোক। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে, জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার চাপ হ্রাস পাবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সহজ হবে।
বক্তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ ব্যয় নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিনিয়োগ। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করবে।