আগৈলঝাড়া থানা হামলা মামলা: দুই সাংবাদিককে আসামি করায় প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ

হোম » গণমাধ্যম » আগৈলঝাড়া থানা হামলা মামলা: দুই সাংবাদিককে আসামি করায় প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ
শনিবার ● ১১ জুলাই ২০২৬


 

শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভার একাংশ।

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দৈনিক যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম এবং আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির প্রতিনিধি এফ.এম. নাজমুল রিপনকে আসামি করার প্রতিবাদে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে হয়রানির উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করে দুই সাংবাদিককে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ভিডিও ফুটেজ, প্রাথমিক তদন্ত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলা করা হয়েছে এবং তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা, কে.এম. আজাদ রহমান, সহ-সভাপতি এইচ.এম. মাসুম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর বিশ্বাস ননী, সদস্য বরুন বাড়ৈ, মানিক হাওলাদার ও স্বপন দাস।

 

সভায় বক্তারা বলেন, থানায় হামলার খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রথমে হাসপাতালে এবং পরে থানায় গিয়ে ভাঙচুরের চিত্র ও আহত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য ধারণ করেন। কেবল সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করলেও দুই সাংবাদিককে মামলায় আসামি করা হয়েছে, যা সাংবাদিকদের হয়রানির শামিল। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দুই সাংবাদিকের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

দৈনিক যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি মাদকসংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে জিডি করা হয়। তার দাবি, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে তাকে বর্তমান মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এফ.এম. নাজমুল রিপন বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি সংবাদ প্রকাশের পর একটি প্রভাবশালী মহল তার বিরুদ্ধে একাধিক জিডি করেছে। থানায় হামলার ঘটনায় সাংবাদিকরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করলেও পরে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান বলেন, ভিডিও ফুটেজ, প্রাথমিক তদন্ত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হামলাকারী ও উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে হয়রানি করা হবে না এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগভাবে মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করা হবে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই রাতে একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা থানায় প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে।

 

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৩:৪৭ ● ১২২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ