গৌরনদীর মাহিলাড়া কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অডিটে অনিয়মের তথ্য

হোম » লিড নিউজ » গৌরনদীর মাহিলাড়া কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অডিটে অনিয়মের তথ্য
মঙ্গলবার ● ২৫ আগস্ট ২০২৬


 

গৌরনদীর মাহিলাড়া কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অডিটে অনিয়মের তথ্য। সংগৃহীত ছবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)

 

বরিশালের গৌরনদীর মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শরিফুল কামালের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার, হিসাববহির্ভূত লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কলেজের আয়-ব্যয়ের ওপর পরিচালিত অভ্যন্তরীণ অডিটে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। অডিট প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

 

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজের সাধারণ ব্যাংক হিসাবের বাইরে ৯৬ লাখ ৮৯ হাজার ৪১৫ টাকা এবং ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪৬২ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বিল গ্রহণের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজের ৩ লাখ ২২ হাজার ৪৪১ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে অধ্যক্ষ নিজের কাছে রেখেছেন। একই সঙ্গে ৪৬ লাখ টাকার ব্যয়ের যথাযথ হিসাব দিতে না পারার বিষয়টিও অডিটে উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে কলেজের সাধারণ তহবিলের ৭০ লাখ ৪৭ হাজার ২৪০ টাকা ১২ পয়সা অধ্যক্ষের কাছে পাওনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অডিট কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে রেজুলেশনের মাধ্যমে কলেজের দুই শিক্ষকসহ পাঁচ সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকে অধ্যক্ষ শরিফুল কামাল অডিট কার্যক্রমে অসহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এ কারণে অডিট সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।

 

অডিট কমিটির সদস্যরা বলেন, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী একজন অধ্যক্ষ সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা হাতে রাখতে পারেন। কিন্তু অডিটে অধ্যক্ষের কাছে তিন লাখ টাকার বেশি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যা বিধিবহির্ভূত। এ পরিস্থিতিতে কলেজের সাধারণ তহবিলে ৭০ লাখ ৪৭ হাজার ২৪০ টাকা জমা দেওয়ার জন্য তাকে বলা হয়েছে।

 

অডিট কমিটির আহ্বায়ক ও বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ের পর পাঁচ সদস্যের কমিটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে অডিট সম্পন্ন করে প্রতিবেদন কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। কমিটির দায়িত্ব ছিল অডিট প্রতিবেদন প্রস্তুত করে জমা দেওয়া। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কলেজের গভর্নিংবডি।

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শরিফুল কামালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি লুৎফর রহমানের মোবাইল ফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

গভর্নিংবডির সদস্য শিকদার হাফিজুর রহমান বলেন, গভর্নিংবডির সভায় অডিট প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৫:৪৮ ● ২১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ