
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা পরিষদের সামনে এনজিও জেজেএসের উদ্যোগে আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিনব্যাপী আয়োজিত এ মেলায় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে আশ্রয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থী, অতিথি ও স্টল প্রতিনিধিদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মেলা আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০০ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করা হলেও অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সময়ে মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। আয়োজকদের দাবি, বৃষ্টির কারণে উপস্থিতি কমে যায়। মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা প্রায় ১৮০ শিক্ষার্থীসহ অতিথি ও স্টল প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মেলা চলাকালে কয়েক দফা বৃষ্টি হলে অস্থায়ী কাপড়ের শামিয়ানার নিচে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন অংশগ্রহণকারীরা। তবে বৃষ্টি থেকে রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ও অতিথিকে ভিজে যেতে দেখা যায়। এ সময় মেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পাশাপাশি আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের হাজিরা নেওয়ার বিষয়টিও চোখে পড়ে।
মেলায় উপস্থিত মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান বলেন, ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ প্রস্তুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আয়োজিত মেলায় বৃষ্টি থেকে সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন ছিল। অস্থায়ী শামিয়ানা বৃষ্টি ঠেকাতে পারেনি। আরও পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলভাবে মেলাটি আয়োজন করা উচিত ছিল।’
বৃষ্টিতে ভেজা শিক্ষার্থীদের কয়েকজনও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের জামাকাপড় ভিজে গেছে। এভাবে ভিজে অসুস্থ হলে এর দায়ভার কে নেবে?’
অভিযোগের বিষয়ে জেজেএসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নব কুমার সাহা বলেন, সীমিত বাজেটের কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
জেজেএসের ক্লাইমেট চেঞ্জ এডুকেটার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি সহায়তা ছাড়াই জেজেএস এ আয়োজন করেছে। বৃষ্টি মাঝে মাঝে আসছে, এতে আমাদের করার কিছু নেই। মেলা তো করতে হবে।’
মেলা উদ্বোধনের সময় মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, বৃষ্টির কারণে মেলার অধিকাংশ চেয়ার ফাঁকা রয়েছে। তবে জলবায়ু ও দুর্যোগ প্রস্তুতি নিয়ে এ ধরনের মেলা গুরুত্বপূর্ণ।
মেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুর আলম শেখ, জেজেএসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নব কুমার সাহা, ক্লাইমেট চেঞ্জ এডুকেটার মো. তারিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, মেলায় মোট আটটি স্টল অংশ নেয়। এর মধ্যে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, একটি ফায়ার সার্ভিস ও একটি সিপিপির স্টল ছিল। প্রায় ১৮০ শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অতিথিদের নিয়ে প্রায় ৫০০ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা থাকলেও বৃষ্টির কারণে মেলায় উপস্থিতি কমে যায়।
সচেতন মহলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন সফল করতে আগাম আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।