
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন গাজীকে দলীয় সকল সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে প্রাণনাশের হুমকি, বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জীবিত পু ড়ি য়ে মা-রা-র হুমকি-সংক্রান্ত একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। এতে দলের শৃঙ্খলা ও আদর্শের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত চিঠির অনুলিপি বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক, বাউফল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ওই অভিযোগের পর ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অডিওতে একজন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারে বাইছা নিছি।’ এরপর তাঁকে এলাকায় আসার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি।’
অডিওটির বিষয়ে ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর আগে তাঁর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বাউফল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যবসা রয়েছে তাঁর। আসন্ন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ কারণে থানায় জিডি করেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদ উদ্দিন গাজীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। এদিকে, হুমকির অভিযোগ ওঠার পর তিনি অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অডিওটির উৎস ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।