
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল
ঝালকাঠির নলছিটিতে দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার তিনটি মাদ্রাসা থেকে এ বছর ৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পারেনি একজনও। বিপরীতে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন মোট ৪৩ জন। গত সোমবার ফল প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে।
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- সূর্যপাশা দাখিল মাদ্রাসা, রানাপাশা হোসাইনিয়া হাসেমিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও পশ্চিম কয়া আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা।
সূর্যপাশা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৩ জন। রানাপাশা হোসাইনিয়া হাসেমিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৬ জন পরীক্ষা দিয়ে সবাই ফেল করেছে। এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৬ জন। আর পশ্চিম কয়া আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে নয়জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজনও পাস করেনি। সেখানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারী ১৪ জন।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে সূর্যপাশা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আলাউদ্দিন বলেন, এ বছর সরকারি পরীক্ষার কারিকুলাম ভিন্ন হওয়া এবং সিসি ক্যামেরার কারণে শিক্ষার্থীরা ভীত ছিল। তবে পাঠদানে কোনো ঘাটতি ছিল না।
রানাপাশা হোসাইনিয়া হাসেমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আবুল বাশার জানান, তিনি দীর্ঘ নয় বছর বরখাস্ত ছিলেন। পাশাপাশি শিক্ষক সংকটের কারণে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে।
পশ্চিম কয়া আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. মনিরুজ্জামান সাগরকন্যাকে জানান, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটেছে।
তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান হয় না। পাশাপাশি রয়েছে অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকট।
ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবু সাইদ বলেন, শূন্য পাসের মাদ্রাসাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাসময়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তরে তথ্য পাঠানো হবে।