গলাচিপায় বৃষ্টির মধ্যে সড়ক ঢালাই, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

হোম » পটুয়াখালী » গলাচিপায় বৃষ্টির মধ্যে সড়ক ঢালাই, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন
রবিবার ● ২ আগস্ট ২০২৬


 

গলাচিপায় বৃষ্টির মধ্যে সড়ক ঢালাই, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া বন্দরে ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই সড়কের আরসিসি (রিজিড পেভমেন্ট) ঢালাই কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। সড়কের বেজমেন্টে পানি জমে থাকা অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে উপজেলা প্রকৌশলীর দাবি, সড়কের ওপর পানি জমে না থাকলে ঢালাইয়ের গুণগত মানে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আওতায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে উলানিয়া বন্দরের এ সড়ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৬ দশমিক ৭ মিটার প্রস্থ ও ৮ ইঞ্চি পুরুত্বের সড়কটির আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করছে পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডালিয়া ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. ফিরোজ মিয়া।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বুধবার (২৯ জুলাই) পুনরায় ঢালাই কাজ শুরুর পর বৃষ্টির মধ্যেই শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যান। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেজমেন্টের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলেও সেই অবস্থায় কংক্রিটের মিশ্রণ ঢালা হচ্ছে। সদ্য ঢালাই করা অংশ বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়। কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির পানিতে ঢালাইয়ের ওপর পানি জমে কংক্রিট সরে যেতে দেখা যায়।

 

স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টির মধ্যে এবং জমে থাকা পানির ওপর আরসিসি ঢালাই করলে সড়কের স্থায়িত্ব ও নির্মাণকাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়া নির্ধারিত অনুপাতের চেয়ে বেশি পাথর ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি ব্যাচে ৫ টিন (গাবলা) পাথর, ৩ টিন (গাবলা) বালু ও ১ ব্যাগ সিমেন্ট দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে কাজ বন্ধের অনুরোধ করলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেজমেন্ট তৈরি করে রডের জালি ফেলে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি বেজমেন্ট ও গাইড ওয়ালে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুম মিয়া বলেন, বৃষ্টির মধ্যে এভাবে ঢালাই করলে রাস্তার মান নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। প্রকল্পের বরাদ্দ ও তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ডও নেই। কাজটি যেন সঠিকভাবে হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির মিয়া বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু কাজ নিয়ম মেনে না হলে কয়েক বছরের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। বৃষ্টির মধ্যে কাজ বন্ধ করতে বললেও তারা শোনেননি।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. মালেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

 

কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিপন দাস বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে কিছুদিন বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, সব উপকরণ নির্ধারিত পরিমাণেই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আমার নজরের বাইরে দুই-একটি ব্যাচে কিছুটা তারতম্য হয়ে থাকতে পারে। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলেও গুণগত মান নষ্ট হবে না। জমে থাকা পানি সরিয়েই ঢালাই করা হয়েছে।

 

গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে যদি রাস্তার ওপর পানি জমে না থাকে, তাহলে গুণগত মানের কোনো সমস্যা হবে না। ঢালাইয়ে নির্ধারিত অনুপাতে উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা আমি দেখিনি। এ বিষয়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট বিস্তারিত বলতে পারবেন।

 

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি হলে কাজ বন্ধ রাখা হবে।

 

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজের অবস্থা ও অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।

 

নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, নিবিড় তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৩:৩৩ ● ১৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ