
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার বামনা উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে মুখ বেঁধে ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগের অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার প্রধান আসামি বামনা উপজেলার দক্ষিণ কাকচিড়া গ্রামের মৃত অহেজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মো. রিমন হাওলাদার (২৮)। অপর আসামি তার বন্ধু রাসেল (৪০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রনজুয়ারা সিপু।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে থাকেন। তাদের একমাত্র কন্যা বরগুনায় থেকে লেখাপড়া করে। এ সুযোগে প্রতিবেশী রিমন হাওলাদার ওই নারীকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি সৌদি আরব থেকে ফোন করে রিমনকে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলেন। এরপর থেকেই রিমন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই সকাল ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারী রিমনের বাড়ির সামনে দিয়ে পাশের বাড়িতে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে জোর করে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রাসেল ঘরের বাইরে পাহারায় ছিলেন। পরে রিমন ওই নারীর মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে ভিডিও ধারণ করেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর রাসেল ওই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে হুমকি দেন, বিষয়টি কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কয়েকটি কাগজে জোর করে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নারী জানান, সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কায় তিনি এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী ও স্থানীয় কয়েকজনের পরামর্শে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। অভিযুক্তদের হুমকির কারণে তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান আসামি রিমন হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।