
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আবদুল বারেক মোল্লার দখলে থাকা জমি নিজেদের দাবি করে উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আঃ আজিজ মুসুল্লী। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এ সময় জমির মালিকানা দাবিদার কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভূইয়া, পৌর যুবদলের সহ-সভাপতি মো. নুর আলম শেখ ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আঃ আজিজ মুসুল্লী অভিযোগ করেন, তাদের ভোগদখলীয় জমি ও বিএনপির কার্যালয় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবদুল বারেক মোল্লা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর তারা ওই জমি ভোগদখল করতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর এবং বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও আমরা আইন হাতে তুলে নিইনি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সামাজিক ও আইনি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কোনো সমাধান না পাওয়ায় প্রশাসনের সহযোগিতা চাইছি।
আঃ আজিজ মুসুল্লী দাবি করেন, লতাচাপলী মৌজার এসএ ১২২৭ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত জমি বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে তারা ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন। পরে ওই জমিতে দোকানঘর নির্মাণ ও বিএনপির কার্যালয় স্থাপন করা হয়। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে ওই কার্যালয় দখল করে আওয়ামী লীগের কার্যালয় পরিচালনা করা হয় এবং পরবর্তীতে জমিতে মাটি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জসিম উদ্দিন বাবুল ভূইয়া দাবি করেন, তিনি ওই খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিকের কাছ থেকে জমি কিনে মার্কেট নির্মাণ করে দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন। পরে আবদুল বারেক মোল্লা ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীরের বিরুদ্ধে জমি ও মার্কেট দখলের অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা কোনো সংঘাত বা প্রতিশোধ চাই না। দলিল, রেকর্ড ও প্রকৃত তথ্য যাচাই করে আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
অভিযোগ অস্বীকার করে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, আমার কোনো মার্কেট নেই। আমি কারো জমি দখল করিনি। যে জমি বা মার্কেটের কথা বলা হয়েছে, সেটির মালিক আমার ভাতিজা বেল্লাল মোল্লা।
তিনি দাবি করেন, ১৯৯৯ সালে সেকান্দর আলী শেখের কাছ থেকে পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক কমিশনার মিলন মিয়ার স্ত্রী জমিটি ক্রয় করেন। পরে তার কাছ থেকে বেল্লাল মোল্লা জমি কিনে মার্কেট নির্মাণ করেন। এ জমি নিয়ে আদালতের পাঁচটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং মামলা চলমান বলেও জানান তিনি।
আবদুল বারেক মোল্লা আরও বলেন, কুয়াকাটা বেড়িবাঁধের বাইরে বিএনপির কোনো অফিস ছিল না। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি এবং মার্কেট দখলের উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এমবি/এমআর