
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি হিন্দু পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তারা চলে যান বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৬ জনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে মামলা করেছেন দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রতন মন্ডল।
মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবককে বিয়ে করেন। পরে ওই নারী ধর্মান্তরিত হয়ে সংসার শুরু করেন। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এনামুল হক এনা, মো. রিয়াজসহ কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক ও ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই পরিবারের বাড়িতে যান। এ সময় তারা পুরোনো ওই বিষয় তুলে ধরে তিন লাখ টাকা দাবি করেন।
রতন মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য ও সাংবাদিক পরিচয় দেন। তারা বলেন, মুসলিম মেয়েকে অবৈধভাবে ঘরে রাখা হয়েছে। বাঁচতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে না পারার কথা জানালে ঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেন। পরে ধার করে ২০ হাজার টাকা দিয়ে তাদের বিদায় করা হয়।’
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ভব রঞ্জন মন্ডল বলেন, বিষয়টি বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবীর ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানানো হয়। পরে তাদের উদ্যোগে ওই ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনামুল হক এনা। তিনি নিজেকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলেন, একজন মুসলিম নারীকে হিন্দু পরিবারের এক যুবক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিবাহ ছাড়া ঘরে রেখেছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি কয়েকজন সংবাদকর্মী নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য নয়।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’