মুলাদীতে বিদ্যালয়কে ‘পারিবারিক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ, তদন্ত দাবি

হোম » শিক্ষা » মুলাদীতে বিদ্যালয়কে ‘পারিবারিক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ, তদন্ত দাবি
শনিবার ● ২৭ জুন ২০২৬


 

প্রতীকী চিত্র

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মুলাদী (বরিশাল)

বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের সমিতিরহাট এলাকার ১৩৪ নম্বর আল শহীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এইচ এম রাসেলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়টিকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালনা এবং স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি পদে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে বসানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা।

এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক মো. সোহেল সরদার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এইচ এম রাসেল দীর্ঘদিন ধরে সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না এবং নিজের ইচ্ছামতো দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যালয়ের জমিদাতা মো. মোশারেফ সরদারের মেয়ের জামাতা হওয়ার সুবাদে তিনি সরকারি এই বিদ্যালয়কে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দাবি করে প্রভাব বিস্তার করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাস খেলায় সময় কাটান। এছাড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী মো. সোহেল সরদার বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে তার এক নিকটাত্মীয় মো. মহসিন সরদারের মেয়ে মোসা. আরভী ইসলাম মেধাকে আল শহীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে ভর্তি দেখিয়েছেন। অথচ ওই শিক্ষার্থী ২১ নম্বর ব্রজমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রী। তার মাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে পরবর্তীতে এসএমসির সভাপতি পদে বসানোর উদ্দেশ্যেই এ কাজ করা হয়েছে।’

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এইচ এম রাসেল বলেন, ‘এটা আমাদের স্কুল, এখানে আমরা কাউকে কৈফিয়ত দেব না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাকির হোসেনও একই পরিবারের সদস্য। ফলে দুজন মিলে বিদ্যালয়ে একটি পারিবারিক বলয় গড়ে তুলেছেন। তাদের কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিক্ষার মানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এইচ এম রাসেল বলেন, ‘অভিভাবকেরা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করেছেন, সেখানে জবাব দেওয়া হবে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. রেজাউল করিম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ২০:৩৪:৫১ ● ১১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ