পটুয়াখালী জুবিলী স্কুল কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা, বিস্তর অভিযোগ

হোম » লিড নিউজ » পটুয়াখালী জুবিলী স্কুল কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা, বিস্তর অভিযোগ
মঙ্গলবার ● ১২ মে ২০২৬


 

পটুয়াখালী জুবিলী স্কুল কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা, বিস্তর অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীতে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন সেটে পরীক্ষা গ্রহণকে কেন্দ্র করে নতুন করে একাধিক অনিয়ম ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনাটি ঘিরে কেন্দ্র পরিচালনা কাঠামো, দায়িত্বপ্রাপ্তদের উপস্থিতি এবং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রবিবার (১০ মে) সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সব কেন্দ্রে ১ নম্বর সেট ‘কর্ণাক’ প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ নম্বর সেট ‘লুক্সর’-এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি প্রকাশ পেলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

 

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এই কেন্দ্রের আওতায় ছোটবিঘাই অফিসেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারি, পটুয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শের-ই-বাংলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং হেতালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট ৩৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তবে পরীক্ষা চলাকালীন ভুল সেট ব্যবহারের বিষয়টি কারও নজরে না আসায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

কেন্দ্র পরিচালনায় দায়িত্বে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল (কেন্দ্র সচিব), হল সুপার বাবুল আখতার এবং কমিটির সদস্য সাঈদুল হক আজাদ, শাহ আলম ও রুবেল হোসেন। অভিযোগ উঠেছে, হল সুপার বাবুল আখতার পরীক্ষার সময় ছুটিতে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। অথচ পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে হল সুপারের ছুটি নিতে হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে।

 

এছাড়া কমিটির সদস্য রুবেল হোসেনের চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। নবীন ও অস্থায়ী শিক্ষককে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কেন্দ্র পরিচালনা কমিটি গঠনে নিয়ম লঙ্ঘন ও ভুল তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার অভিযোগও উঠেছে।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা বোর্ড বা প্রশাসনকে অবহিত না করে গোপন রাখেন। পরে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসন দ্রুত শিক্ষা বোর্ডকে জানায় এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে ব্যবস্থা নেয়।

 

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড- এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জিএম শহিদুল ইসলাম জানান, যে প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে, সেই প্রশ্ন অনুসারেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে এবং পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না। তবে দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার জানান, কেন্দ্র সুপার, সচিব, ট্যাগ অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়ম প্রমাণিত হলে জনপ্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ পাঠানো হবে।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, একই বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘিরে অতীতেও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। ২০০৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ব্যবহারিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কেন্দ্র বাতিলসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

 

বর্তমান ঘটনায় আবারও একই প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রকে ঘিরে প্রশ্নপত্র ভুল, দায়িত্বে অনুপস্থিতি এবং কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় শিক্ষা প্রশাসনের নজরদারি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৪২:০৯ ● ১০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ