
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) দেশের তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিলেও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা পর্যটননগরী কুয়াকাটা পৌরসভা কিংবা মহিপুর থানাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় উপকূলীয় জনপদে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কুয়াকাটা ও মহিপুর- দুই এলাকার বাসিন্দাই নিজ নিজ এলাকার পক্ষে উপজেলা ঘোষণার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত নিকারের ১২১তম বৈঠকে চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ ও ময়মনসিংহের ‘পাগলা’ নামে তিনটি নতুন উপজেলা এবং চট্টগ্রামের ‘হালদা’ নামে একটি নতুন থানা অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে কুয়াকাটা বা মহিপুরের কোনো প্রস্তাব বৈঠকে স্থান পায়নি।
এ অঞ্চলের মানুষ নিকারের এ বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর রেখেছিলেন। কারণ বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কুয়াকাটা পৌরসভাকে উপজেলায় উন্নীত করার দাবির পাশাপাশি মহিপুর থানাকে পৃথক উপজেলা ঘোষণার দাবিও জোরালোভাবে সামনে আসে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনও এ বিষয়ে মতামত দিয়ে আসছে।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মতিউর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোনো এলাকাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণার জন্য নিকারের বৈঠকে উপস্থাপনের আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। যতটুকু জেনেছি, কুয়াকাটাকে উপজেলা ঘোষণার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। আশা করছি, প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ করে অচিরেই নিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কুয়াকাটাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। কুয়াকাটা দেশের একমাত্র সমুদ্রসৈকত, যেখানে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এর পরিচিতি রয়েছে এবং প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক এখানে আসেন। পর্যটন, অর্থনীতি, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনায় কুয়াকাটাকে উপজেলা ঘোষণা করা অত্যন্ত যৌক্তিক। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’
অন্যদিকে মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাজাহান পারভেজ অনুরূপভাবে বলেন, ‘মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে আমরা সংসদ সদস্যের ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) লেটার সংগ্রহসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করে আসছি। তবে নিকারে উপস্থাপনের আগে যেসব প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন, তার সবগুলো এখনও শেষ হয়নি। মহিপুর একটি বৃহৎ জনবসতিপূর্ণ এলাকা। মৎস্য বন্দর, ব্যবসা-বাণিজ্য, জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক গুরুত্বের দিক থেকে এর স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণা করা প্রয়োজন। এ দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এবিএম মোশাররফ হোসেনও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন। তবে কুয়াকাটা ও মহিপুর উভয়ই বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলার অংশ হওয়ায় নতুন উপজেলা গঠনের ক্ষেত্রে কোন এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন উপজেলা অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় উপকূলীয় এই অঞ্চলের প্রশাসনিক গুরুত্ব, জনসংখ্যা, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় কুয়াকাটা অথবা মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণা করা হলে স্থানীয় জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে।
নিকার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘পাগলা’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা’ থানা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একই বৈঠকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলো ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।