
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
গৌরনদী উপজেলার টিএনটি মোড়ে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে বালু ফেলে রেখে কাজ বন্ধ রাখায় স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহন চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করলেও নির্মাণসামগ্রী সড়কের ওপর ফেলে রাখায় দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগে কাজ শুরু করে অল্প কিছু অংশ সম্পন্ন করার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালুর বড় বড় স্তূপ রেখে চলে যায়। এরপর থেকে কার্যত কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। এতে আশপাশের বাসিন্দারা চলাচলে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।
সড়কের একাংশে বালুর স্তূপ পড়ে থাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন পাশ কাটাতে গিয়ে হঠাৎ ব্রেক করতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয় রফিকুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর বালুর স্তূপ স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। ভুক্তভোগী অনেকের সাথে কথা বলে একই বক্তব্য উঠে এসেছে।
অন্যদিকে ধুলাবালুর কারণে আশপাশের দোকানপাট ও বসতবাড়ির বাসিন্দারাও চরম বিপাকে পড়েছেন। ব্যবসায়ী আবজাল হোসেন বলেন, বালুর ধুলোয় পণ্য নষ্ট হচ্ছে এবং ক্রেতা উপস্থিতি কমে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর কাজ পুনরায় শুরু হতে পারে বলে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে- এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। ঠিকাদারি আইন ও নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই কাজ শুরু করায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন- যদি কাজ চলমান না থাকে, তাহলে কেন সড়কের ওপর বালু ফেলে রেখে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হলো?
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সড়ক থেকে বালু অপসারণ, নির্মাণকাজে গতি আনা, প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, রাতে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ ইব্রাহিম জানান, জনসাধারণের চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।