
মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ইজিবাইক চালকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে কলাপাড়া পৌরসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচিতে শতাধিক চালক অংশ নেন এবং ‘পুলিশের নামে চাঁদাবাজি মানি না, মানবো না’ স্লোগান দেন।
চালকদের অভিযোগ, পুলিশের রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনের কথা বলে একটি চক্র প্রতিদিন একাধিক ইজিবাইক আটক করে। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে আরও বহু গাড়ি আটকে রেখে টাকা আদায় করা হয়। টাকা দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে রেহাই মিলছে না বলে দাবি করেন তারা।
বিক্ষোভকারীদের একজন মো. ইমন বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষার্থী। সংসারের প্রয়োজনে ইজিবাইক চালাই। সোমবার রাতে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে কয়েকজন যুবক আমার গাড়ি আটক করে। অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বললেও তারা শুনেনি। পরে আমাকে মারধর করে চাবি ছিনিয়ে নেয়।’
আরেক চালক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ভাড়ায় গাড়ি চালাই। বিকেলে গাড়ি নিয়ে যায়, সারারাত টহল দেয়, কিন্তু কোনো ভাড়া দেয় না। উল্টো নিজের টাকায় মশার কয়েল কিনতে হয়।’
ভুক্তভোগী সোহাগ জানান, প্রতিদিন প্রথমে বহু গাড়ি আটক করা হয়, পরে নির্দিষ্ট কয়েকটি রেখে বাকিগুলো টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, যা চাঁদাবাজির শামিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক জানান, একটি চক্র মাসে ২০০ টাকা করে আদায় করে এবং বিনিময়ে টোকেন দেয়। টাকা না দিলে চালকদের রাতের ডিউটিতে বাধ্য করা হয়। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এ কার্যক্রম চলছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মাত্র পাঁচ দিন আগে এখানে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। তবে চুরি-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে মাঝে মধ্যে ইজিবাইকের সহায়তা নিতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’