
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার আমতলী পৌর শহরের মহিলা কলেজ সড়কের একটি বাসায় শারমিন আক্তার রুবা (২৭) নামে এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে শারমিন আক্তার রুবা তার মা জাহানারা বেগমকে নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে ও একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি রাহাত ফকির নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। কখনো তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী, আবার কখনো প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে তাদের প্রকৃত সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত নন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে শারমিন ও রাহাতের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং বাসা থেকে কান্নার শব্দ শোনা যায়। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাহাত ফকির একটি অ্যাম্বুলেন্স এনে শারমিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ডা. হুমায়ুন আহমেদ সুমন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার কথা জানানো হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, খবর পেয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গির হোসেন হাসপাতালে গিয়ে নিহতের মরদেহ ও তার মাকে একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে কিছু রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তথ্য সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের ওই কক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নিহতের মরদেহ ও তার মাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে নিহতের মাকে রাতভর থানায় রাখার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে, মৃত্যুর আগে শারমিন তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার জীবন যাহারা নষ্ট করেছে, আল্লাহ যেন তাদের ধ্বংস করে দেন।’ তবে মৃত্যুর পর ওই পোস্টসহ তার অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু ছবি মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সাগরকন্যাকে জানান, গত এক বছর ধরে রাহাত ফকির শারমিনের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তাদের ঝগড়া হয় এবং শারমিনকে কাঁদতে শোনা যায়। পরে রাহাত ফকির তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু- তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এ বিষয়ে রাহাত ফকিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, ‘মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।’
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই খুদা জানান, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’