
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার তালতলীতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলিসহ পাঁচজনকে আটকের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রেস ব্রিফিং করেছে পুলিশ। দুপুরে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা।
পুলিশ সুপার বলেন, তালতলী উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের পৃথক সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, জেলার বাইরে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ বহিরাগতরা এলাকায় প্রবেশ করেছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য ও সহায়তায় বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গাবতলী গ্রামের একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়।
তিনি বলেন, বাসাটি রিয়াজ কাজীর মালিকানাধীন। অভিযানের সময় বাসাটির ভাড়াটিয়া লিমনের হেফাজতে থাকা একটি কক্ষের খাটের তোশকের নিচে শপিং ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাসায় অবস্থানরত পাঁচজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- বরগুনার তালতলী উপজেলার আঙ্গারপাড়া গ্রামের লিটন শিকদারের ছেলে লিমন (২৮), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া গ্রামের সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে অনিক মজুমদার (২৫), বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. জামাল (২৭), নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাঠালতলী গ্রামের আনোয়ার খানের ছেলে জিহাদ (৩৫) এবং বরগুনা সদর উপজেলার আমড়াঝুড়ি গ্রামের মোসলেম মোল্লার ছেলে হৃদয় (২৪)।
পুলিশ সুপার জানান, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তালতলী উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষ একই স্থানে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তালতলী থানা এলাকায় পুলিশের একাধিক দল মোতায়েন করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আরও বলেন, বরগুনা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধ দমন, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও মাদকবিরোধী অভিযানে জেলা পুলিশ কাজ করছে।
সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তিকে দেখা গেলে বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ মনে হলে দ্রুত নিকটস্থ থানা অথবা জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষে তথ্য দিতে হবে। জনগণের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।