
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
রাত তখন ১টা ১০ মিনিট। চারপাশ যখন নীরব, মানুষ যখন গভীর ঘুমে, তখন অসুস্থ শিশুকে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এক মা ও দাদি। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন না পেয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছিলেন তারা। এ সময় তাদের পাশে দাঁড়ান নেছারাবাদ থানার এএসআই মো. জিকুর উল্লাহ।
স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নে রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনের সময় বিষয়টি নজরে আসে এএসআই জিকুর উল্লাহর। অসুস্থ শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে তিনি মা ও দাদিকে শিশুসহ নিজের ডিউটি গাড়িতে তুলে নেন। পরে নেছারাবাদ হাসপাতালে পৌঁছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে শিশুটিকে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার পর এএসআই মো. জিকুর উল্লাহ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন। সেখানে তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের সময় অসুস্থ শিশুকে নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মা ও দাদিকে দেখতে পান। তারা হাসপাতালে যাওয়ার জন্য গাড়ি খুঁজছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি তাদের ডিউটি গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে শিশুটিকে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানান, হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পর ফেরার সময় শিশুটির মা ও দাদির মুখে যে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি দেখেছেন, সেটিই তার কাছে দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
এএসআই মো. জিকুর উল্লাহ বলেন, ‘রাত্রিকালীন ডিউটিরত অবস্থায় অসুস্থ শিশু সন্তানকে নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মা ও দাদিকে দেখে এগিয়ে যাই। জানতে পারি, শিশুটি অসুস্থ। পরে তাদের আমাদের গাড়িতে করে নেছারাবাদ হাসপাতালে নিয়ে আসি এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে ভর্তির ব্যবস্থা করি।’
একজন পুলিশ সদস্যের দায়িত্ববোধের পাশাপাশি তার এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসা করছেন অনেকে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার এমন আচরণকে পুলিশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরিতে সহায়ক বলে মন্তব্য করছেন।
স্থানীয়রা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোও একজন পুলিশ সদস্যের নৈতিক দায়িত্বের অংশ। গভীর রাতে অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘটনায় এএসআই জিকুর উল্লাহ সেই দায়িত্ববোধেরই পরিচয় দিয়েছেন।