বরগুনা পৌরসভার ২৮ কিলোমিটার সড়কের বেহালদশা

হোম » বরগুনা » বরগুনা পৌরসভার ২৮ কিলোমিটার সড়কের বেহালদশা
বৃহস্পতিবার ● ২০ আগস্ট ২০২৬


 

বরগুনা পৌরসভার ২৮ কিলোমিটার সড়কের বেহালদশা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনা পৌরসভার ১০১ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে ২৮ কিলোমিটারই এখন বেহাল। এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচঢালাই উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও কোথাও সড়কের অংশবিশেষ দেবে গেছে বা ধসে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যানচালকেরা।

 

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে প্রায় ২৩ কোটি টাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে ১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে লটারির মাধ্যমে ঠিকাদারও চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

 

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বরগুনা পৌর এলাকায় প্রায় ৬০ হাজার ৮৭৫ মানুষের বসবাস। এখানে মোট পাকা সড়কের দৈর্ঘ্য ১০১ কিলোমিটার। এর মধ্যে আমতলার পাড়, বটতলা, ডিকেপি, দিঘিরপাড়, কড়ইতলা, টাউন হল, সুলতান আলী, হাসপাতাল, কেজি স্কুল, কাঠপট্টি, আবুল হোসেন ঈদগাহ, চরকলোনি, পোস্ট অফিস, পশু হাসপাতাল ও জেলা বিএনপি কার্যালয় এলাকার সড়কসহ অন্তত ২৮ কিলোমিটার সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে।

বরগুনা পৌরশহরে চরকলোনী সড়ক

 

সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পিচঢালাই উঠে গেছে। কোথাও ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত, আবার কোথাও সড়কের মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর খানাখন্দ। এসব সড়ক দিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও সাইকেল ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

 

পোস্ট অফিস সড়কের এক পাশ দেবে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল। বটতলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোয়া উঠে গেছে। প্রায় আট বছর আগে সংস্কার করা আমতলার পাড় সড়কেও তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। আবুল হোসেন ঈদগাহ সড়কের অবস্থাও নাজুক।

 

তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে দিঘিরপাড় সড়কে। সড়কটির প্রায় ৫০ ফুট অংশ ধসে গিয়ে সীমানাপ্রাচীর হেলে পড়েছে। ফলে ওই অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।

 

দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা রফিক বলেন, ‘আমাদের সড়কটি ধসে দিঘিতে পড়ে গেছে। সীমানাপ্রাচীর হেলে পড়ছে। পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে অন্য সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’

 

চরকলোনির অটোরিকশাচালক মালেক, শহিদ ও আবুল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সড়কে গাড়ি চালাই। শহরের মূল সড়কগুলো মোটামুটি ভালো। আগের মেয়র মো. শাহাদাত হোসেন শহরের সড়কগুলো সংস্কার করেছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল সড়ক, দিঘিরপাড়, কেজি স্কুল ও ধানসিঁড়ি সড়কে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। গর্তে পড়ে প্রায়ই অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

 

চরকলোনি সড়কের বাসিন্দা গোলাম হায়দার নিলু বলেন, ‘প্রায় দেড় যুগ আগে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। গত ছয় বছর ধরে এটি ভাঙাচোরা। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও সংস্কারের উদ্যোগ পাওয়া যায়নি। জোয়ারের সময় সড়কটি তলিয়ে যায়। সড়কের পাশে ড্রেন থাকলেও সেটিরও সংস্কার হয় না।’

 

বরগুনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘পৌরসভার ১০১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৮ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এসব সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে প্রায় ২৩ কোটি টাকা প্রয়োজন।’

বরগুনা পৌরশহরে দীঘির পাড় সড়ক

 

এদিকে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। পানি জমে গর্তগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে এসব সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশা, রিকশা ও ভ্যানচালকেরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

বরগুনা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সজল চন্দ্র শীল বলেন, ‘বরগুনা পৌর শহরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য ১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। লটারির মাধ্যমে ঠিকাদারও চূড়ান্ত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৭:৩৭ ● ২০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ