বাবা ও প্রেমিকের সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি করতেন সুমাইয়া, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার

হোম » আইন-আদালত » বাবা ও প্রেমিকের সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি করতেন সুমাইয়া, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার
বৃহস্পতিবার ● ২০ আগস্ট ২০২৬


 

পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেপ্তার

সাগরকন্যা প্রতিবেদক

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে রাজধানী থেকে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামে এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। একই অভিযানে বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ থেকে তার প্রধান সহযোগী প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া মেয়ের এ ধরনের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত থেকেও তাতে সম্মতি দেওয়া ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিএমপির গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, একটি চক্র অনলাইনে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার করত। পরে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ বা চ্যানেলে অর্থের বিনিময়ে এসব ভিডিও ও ছবি বিক্রি করা হতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার জন্য বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো।

 

ডিবি কর্মকর্তা জানান, তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে গত ১১ আগস্ট ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে খাজা সাকলাইন ফারুককে একটি স্মার্টফোনসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

 

জব্দ করা ডিভাইসগুলো বিশ্লেষণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

 

এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

পাশাপাশি অপরাধে জড়িতদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক লেনদেন ও সহযোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

বাংলাদেশ সময়: ৭:১৫:৩৪ ● ২৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ