
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপার সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনের খালে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যোগসাজশে প্রতিবছর এ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন খালে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। এভাবে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণীর প্রজনন ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চরকারফা এলাকার মধ্যস্বত্বভোগী মোশারেফ প্যাদা বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ফরেস্ট অফিস ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করেই খালের বিট নেওয়া হয়েছে। যারা বিট নেয়, তারাই মাছ ধরে। আবার কেউ কেউ বিট অন্যদের কাছেও বিক্রি করে। তবে কার কাছে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পরে জানাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, সংরক্ষিত বনের ভেতরে প্রবেশ করে মাছ শিকার বন ও প্রকৃতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অনেক ক্ষেত্রে মাছ ধরার জন্য খালে বিষও প্রয়োগ করা হয়। এতে শুধু মাছ নয়, ছোট-বড় সব জলজ প্রাণী ধ্বংস হয় এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে গলাচিপা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত সংরক্ষিত বনের কোনো খাল মাছ শিকারের জন্য ইজারা বা বিট দেওয়া হয়নি। যারা খালে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় পরিবেশসচেতনদের দাবি, সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বন ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ মাছ শিকার দ্রুত বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।