
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড়-সরিকল খাল পুনঃখনন প্রকল্পে কাজ শেষে অব্যবহৃত ৭৬ লাখ ৯ হাজার ২৭৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি, সেচ, মৎস্যসম্পদ, পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। অব্যবহৃত ৭৬ লাখ ৯ হাজার ২৭৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পলি জমে নাব্যতা হারানো বাটাজোড়-সরিকল খালটি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকটের অন্যতম কারণ ছিল। পুনঃখননের ফলে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরে এসেছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, দেশীয় মাছের আবাস ও প্রজনন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব আলী শেখ বলেন, আগে সময়মতো জমিতে চাষাবাদ করা কঠিন ছিল। এখন সেচব্যবস্থা সহজ হওয়ায় আবাদ বাড়বে এবং কৃষকের উৎপাদন খরচও কমবে।
কৃষক নিতাই মালি সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, পর্যাপ্ত পানির কারণে এখন তিন মৌসুমে চাষাবাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মো. কামাল ফকির বলেন, খাল পুনঃখননের সুফল কৃষির পাশাপাশি দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অপর বাসিন্দা অধীর বর্ধন বলেন, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসায় এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল পানির প্রবাহ সচল করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা। তিনি জানান, প্রায় ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই তীরে ৬ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এসব চারার নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে কৃষি, সেচ, মৎস্যসম্পদ, নৌ-যোগাযোগ ও পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি সুফল মিলবে। পাশাপাশি প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা সরকারি অর্থের দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার একটি ইতিবাচক নজির হয়ে থাকবে।