সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
করোনা মহামারির সময় রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করতে বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থাপন করা আধুনিক অক্সিজেন উৎপাদন প্লান্টটি চার বছর ধরে অচল পড়ে আছে। ফলে নিজস্বভাবে অক্সিজেন উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আমদানি করা লিকুইড অক্সিজেনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গ্লোবাল ফান্ড ও ইউএনওপিএসের সহায়তায় দেশের ২৯টি সরকারি হাসপাতালে বাতাস থেকে অক্সিজেন উৎপাদনের প্লান্ট স্থাপন করা হয়। বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালও এ প্রকল্পের আওতায় একটি প্লান্ট পায়। প্লান্টটি চালু থাকাকালে কেন্দ্রীয় পাইপলাইনের মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হতো। অতিরিক্ত উৎপাদিত অক্সিজেন সিলিন্ডারে ভরে জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সরকারি অ্যাম্বুলেন্সেও সরবরাহ দেওয়া হতো।
কিন্তু স্থাপনের প্রায় এক বছরের মাথায় কারিগরি ত্রুটিতে প্লান্টটি বিকল হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে চার বছর। এ সময়ে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মেরামতের আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রের দাবি।
সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, দরজায় তালা ঝুলছে। ভেতরে যন্ত্রপাতিতে ধুলা জমেছে, বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে। দীর্ঘদিন অচল থাকায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও হচ্ছে না।
প্লান্টটি বন্ধ থাকায় বর্তমানে লিনডে কোম্পানির স্থাপিত লিকুইড অক্সিজেন ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি করা অক্সিজেন ব্যবহার করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতি মাসে শুধু অক্সিজেন সিলিন্ডার ভাড়াতেই ব্যয় হয় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিবার লিকুইড অক্সিজেন সংগ্রহে ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কোনো কোনো মাসে দুই থেকে তিনবার অক্সিজেন সংগ্রহ করতে হওয়ায় মোট ব্যয় পাঁচ লাখ টাকারও বেশি ছাড়িয়ে যায়।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের অফিস সহকারী মো. জালাল আহমেদ বলেন, করোনার সময় পাওয়া অক্সিজেন প্লান্টটি প্রায় এক বছর সচল ছিল। তখন হাসপাতালের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও এখান থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্লান্টটি বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে লিকুইড অক্সিজেনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সিলিন্ডার ভাড়া ও লিকুইড অক্সিজেন কেনায় প্রতি মাসেই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
প্রধান সহকারী মো. শহিদুল ইসলাম (স্বপন) বলেন, প্লান্টটি সচল করতে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ মুরশীদ আল-মামুন বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে প্লান্টটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এটি সচল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, অক্সিজেন প্লান্টটি পুনরায় চালু করা গেলে প্রতি মাসে সরকারের কয়েক লাখ টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বরগুনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও স্থানীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে চার বছর ধরে অচল থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি কবে সচল হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।