শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের নিন্দা মনপুরায় মসজিদের ভিতর শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

হোম » ভোলা » শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের নিন্দা মনপুরায় মসজিদের ভিতর শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
শনিবার ● ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

মনপুরায় মসজিদের ভিতর শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মনপুরা (ভোলা)

 

ভোলার মনপুরায় মসজিদের উন্নয়ন কাজের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে মারধর ও রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা।

 

শুক্রবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পচাকোড়ালিয়া বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি মসজিদে জুমার নামাজের খুতবা শেষে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসা নিতে এসে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন আহত শিক্ষক।

 

অভিযোগকারী শিক্ষক আবদুস জাহের ৪১ নম্বর দক্ষিণ রহমানপুর (১৫০০) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। তিনি ওই ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের বাসিন্দা।

 

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, জুমার নামাজের বয়ান শেষে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম উন্নয়ন কাজের হিসাব দিচ্ছিলেন। এ সময় মুসল্লি বিল্লাল হোসেন কাজের তুলনায় শ্রমিক ও খরচ বেশি হয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শিক্ষক জাহের ও তাঁর দুই ছেলের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এতে জাহের রক্তাক্ত হন এবং তাঁর পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। পরে তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যান।

 

শিক্ষক আবদুস জাহের অভিযোগ করে বলেন, বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঞ্জাত আলী রাড়ী, বাকের রাড়ী, মো. সালাউদ্দিন সরদার, সিরাজ সরদারসহ কয়েকজন তাঁর ও দুই সন্তানের ওপর হামলা করেন। মসজিদের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচার দাবি করেন এই শিক্ষক।

 

মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম বলেন, ‘জাহের মাস্টার মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মসজিদের উন্নয়নের কথা বলার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আমরা লজ্জিত ও অনুতপ্ত।’

 

মনপুরা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘একজন সহকারী শিক্ষকের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। তাঁদের ওপর এ ধরনের হামলা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’

 

মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন জানান, শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

 

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, ‘মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজাহারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:০২:৫৯ ● ১২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ