বরগুনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ১৫ লাখ টাকা

হোম » বরগুনা » বরগুনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ১৫ লাখ টাকা
শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬


বরগুনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ১৫ লাখ টাকাসাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, কাপড়চোপড়, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ পরিবারের প্রায় সব মালামাল পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গৌরীচন্না বাজারের দক্ষিণ পাশে, গৌরীচন্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বসংলগ্ন এলাকায় শিমুল মৃধার বসতবাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয়রা জানান, ওই বাড়িতে গৌরীচন্না উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার মাস্টারের ছেলে শিপন ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। বিকেলে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই তা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় বহু বছরের সঞ্চয়ে গড়া আসবাবপত্র, মূল্যবান মালামাল ও দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রায় সব সামগ্রী পুড়ে যায়। প্রাণে রক্ষা পেলেও পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বের করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।

 

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় ২৫ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।

 

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

 

এ সময় বরগুনা জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক মাস্টার বলেন, একটি পরিবারের বহু বছরের কষ্টে গড়া সংসার কয়েক মিনিটের আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে। এমন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বরগুনা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব ও বরগুনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াসী মতিন বলেন, অগ্নিকাণ্ডে পরিবারটি সর্বস্ব হারিয়েছে। তাদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের এগিয়ে আসা উচিত।

 

স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি বর্তমানে চরম মানবিকসংকটে রয়েছে। দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

বাংলাদেশ সময়: ২২:১৮:১৯ ● ৪১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ