জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা হ্রাসে হস্ত ও অঙ্কনশিল্পভিত্তিক উদ্যোগ কার্যকর: মুক্তি কক্সবাজারের গবেষণা

হোম » চট্টগ্রাম » জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা হ্রাসে হস্ত ও অঙ্কনশিল্পভিত্তিক উদ্যোগ কার্যকর: মুক্তি কক্সবাজারের গবেষণা
বুধবার ● ২৯ জুলাই ২০২৬


 

পাঁচ দফা দাবিতে বরগুনাসহ সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট শুরু

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কক্সবাজার


মানবিক সংকটে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) হ্রাসে হস্ত ও অঙ্কনশিল্পভিত্তিক উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে মুক্তি কক্সবাজার। বুধবার কক্সবাজারের লং বিচ হোটেলে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন ও যাচাইকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণা প্রকল্পটির অর্থায়ন করেছে ওডিআই গ্লোবাল (ODI Global)।

 

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

 

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক ড. মারুফা আক্তার। গবেষণায় দেখা যায়, মানবিক সংকটাপন্ন পরিবেশে নকশিকাঁথা, দেয়ালচিত্র ও লোকগানের মতো হস্ত ও অঙ্কনশিল্পভিত্তিক উদ্যোগ জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, ক্ষতিকর সামাজিক ধ্যান-ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং কমিউনিটিতে ইতিবাচক সংলাপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ বাস্তবতায় গবেষণার ফলাফল সমস্যা মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে বিমল চন্দ্র দে সরকার বলেন, হস্ত ও অঙ্কনশিল্প নারী, পুরুষ, কিশোর ও কিশোরীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশের কার্যকর মাধ্যম। একই সঙ্গে এটি ক্ষতিকর জেন্ডারভিত্তিক সামাজিক মানদণ্ড ও নেতিবাচক পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ে অর্থবহ আলোচনা এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।

 

কর্মশালায় আরআরআরসি কার্যালয়ের কর্মকর্তা, ক্যাম্প-ইন-চার্জ (সিআইসি), জিআইজেড, ইউএনএফপিএ, ইউনিসেফ, আইওএম, ডব্লিউএফপি, অক্সফাম, কেয়ার বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, ব্র্যাক, ইপসা, এইচআই, সেন্টার ফর ডিসএবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা গবেষণার ফলাফল নিয়ে মতামত দেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং গবেষণার সুপারিশ আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন।

 

অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে গবেষণায় অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের তৈরি ১৬টি নকশিকাঁথা প্রদর্শিত হয়। এসব শিল্পকর্মে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, নারীর অধিকার, নিরাপত্তা, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ এবং ক্ষতিকর সামাজিক রীতিনীতির বিভিন্ন দিক শিল্পসম্মতভাবে তুলে ধরা হয়।

 

আয়োজকরা জানান, গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন শিগগিরই সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:০০:০১ ● ১৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ