বানারীপাড়ায় ট্রিপল মার্ডার, গ্রেফতার-১

প্রথম পাতা » বরিশাল » বানারীপাড়ায় ট্রিপল মার্ডার, গ্রেফতার-১
শনিবার ● ৭ ডিসেম্বর ২০১৯


বানারীপাড়ায় ট্রিপল মার্ডার, গ্রেফতার-১

বানরীপাড়া (বরিশাল) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

বানারীপাড়ায় কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রব’র বাড়ি থেকে তার বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগমসহ তিন জনের লাশ উদ্ধার করার পর এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অপরদিকে কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে ট্রিপল মাডারের শরীরে বড় ধরণের কোন ক্ষত কিংবা চিহ্ন খুজে পায়নি পুলিশ। ঘাতরা এতটাই দৃঢ় যে নিহতের শরীরে কোন বড় ধরণের ক্ষত খুজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ট্রিপল মাডারের রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডি সহ উর্ধতন কর্মকর্তারাও মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। তারা অচিরেই এ বিষয়টির রহস্য উদ্ধার করতে পারবেন বলে পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানা গেছে, শনিবার সকালে খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কামার পাল ও ওসি (তদন্ত) মো. জাফর আহম্মদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রব’র বাস ভবনের ব্যালকুনির মেঝে থেকে তার বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগম (৭৫) ও পাশের রুম থেকে বোন জামাতা অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক শফিকুল আলম (৬০) এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই পারিবারিক ভাবে বাড়ির পিছনের পুকুর থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় ভাসমান খালাতো ভাই ভ্যানচালক ইউসুফ হোসেন (৩২)’র লাশ উদ্ধার করে। পরে খবর পেয়ে বরিশালের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম এহসান উল্লাহ, পুলিশ সুপার মো.সাইফুল ইসলাম (বিপিএম বার), পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত মো.রকিব উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.আনোয়ার সাঈদ সহ পিবিআই ও সিআইডি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ওই ভবনের ভিতর থেকে দরজা-জানালা বন্ধ থাকার  কথা জানতে পালেও কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী মিশু ও তার ভাতিজি আছিয়া খাতুন ছাদে যাওয়ার দরজা খোলা পাওয়া গেছে বলে দাবী করেছেন। তাদের ধারণা ছাদের পাশেই একটি আম গাছ রয়েছে। দূর্বৃতবতরা ওই আম গাছ থেকে ভবনের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে।
এ বিষয়ে বরিশালের পুলিশ সুপার মো.সাইফুল ইসলাম (বিপিএম বার) বলেন, আমরা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি। এছাড়া যারা নিহত হয়েছেন, তাদের শরীরে বড় ধরনের কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নী। এক্ষেত্রে তাদের ফরেনসিক রিপোর্ট ছাড়া এখনই কোন কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে হত্যাকারীরা পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তারা প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছেন বলেও তিনি জানান।
এদিকে ওই দিন দুপুরে পুলিশ উদ্ধারকৃত তিন জনের লাশ সুরাতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন। একই দিন বিকেলে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বিল্ডিংয়ের নির্মাণ শ্রমিক জাকির হোসেন নামের এক জনকে আটক করেছেন। পুলিশের কাছে আটক হওয়া জাকির হোসেন এর আগে দুবাই প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রব’র বাস ভবনে রাজ মিস্তুরীর কাজ করেছেন এবং সে প্রায়ই ওই বাড়িতে ঝাড়ফুক দিতে আসতেন বলে ওসি শিশির কুমার জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি শিশির কুমার বলেন, এক জন বৃদ্ধা মা সহ তিন জনকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আমরা পুরো ঘটনাটি উদ্ধারের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
অপরদিকে কুয়েত প্রবাসীর বাস ভবনে ট্রিপল মাডার ঘটনার রাতে খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে দুই শিশু কন্যা ইফাত জাহান (৯) ও নুর জাহান (৪)কে নিয়ে রাত কাটানো স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশু ও তার বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগমের পাশে এক বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজের এইচ.এস,সি প্রথম বর্ষের ছাত্রী আছিয়া খাতুন প্রথমে কিছুই জানেন না বলে দাবী করলেও পরবর্তীতে প্রবাসীর স্ত্রী মিশু তার রুমে থাকা আলমিরা থেকে দুর্বৃত্তরা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা পয়সা এবং তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া কথা বলছেন। এ সময় তিনি ওই তিনটি মোবাইলের মধ্যে একটি তার ও অপর দু’টি তার শাশুড়ি ও ননদ জামাতার বলে জানান। এক্ষত্রে দূর্বৃত্তরা কি পরিমান স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়েছে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিৎ করে কিছুই বলতে পারেননী। এ বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল জানান।
এদিকে কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বড় বোন জাহানা বেগম জানান, ভোর রাতে খবর পেয়ে চাখার এলাকা স্বামী বাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে ছুটে এসে বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগম, ছোট বোন জামাতা নেছারাবাদের অবঃ শিক্ষক শফিকুল আলম ও খালাতো ভাই ভ্যান চালক ইউসুফের লাশ দেখতে পান। এ বিষয়ে তিনি জানান, একটি ঘরে ঘুমিয়ে থাকা সব মানুষের মধ্য থেকে ৩ জন খুন হয়ে যাবে আর কেউ সেটি টের পাবে না তা হতে পারে না। তিনি বলেন, আর কেউ বলতে না পালেও তার বৃদ্ধা মায়ের পাশে ঘুমিয়ে থাকা মেঝ ভাই হারুন’র মেয়ে চাখার কলেজের ছাত্রী আছিয়া খাতুন’র ‘তো’ টের পাওয়ার কথা। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে তার বৃদ্ধা মা ও বোন জামাতা এবং খালাতো ভাইয়ের হত্যাকারীদের খুজে বের করে গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দবী জানিয়েছেন।
দুবাই প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের গেয়াতি চাচাতো ভাই ও ইউপি সদস্য আলম হাওলাদার জানান, হাফেজ আব্দুর রব ও তার সেঝ ভাই হাফেজ হাসান দীর্ঘ দিন ধরে কুয়েতের পৃথক দু’টি মজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া তার মেঝ ভাই হারুন হাওলাদার বাড়িতে থেকে কাপড়ের ব্যাবসা করে এবং ছোট ভাই ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকুরী করে। শুক্রবার ভোর রাতের দিকে কাপড় ব্যবসায়ী হারুনের মেয়ে কলেজ ছাত্রি আছিয়া খাতুন পাশের বাড়ি থেকে তার বাবাকে ডেকে আনে। হারুন এসে বাড়ির সকলকে ডেকে ওঠায় এবং সে তার মাকে ব্যালকুনীতে পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে তাকে নেরে দেখেন। পরে সে একটি রুমে তার বোন জামাতা শফিকুল আলম ও পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তার খালাতো ভাই ইউসুফকে দেখতে পান। এ সময় সে পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় ইউসুফকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে আসেন। পরে তারা এবিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

জিএমআর/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৬:২৩:৫২ ● ৪৮৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ