
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
বরিশালের গৌরনদী থেকে প্রেমের টানে চাচাতো ভাইকে বিয়ে করা আরিফা আক্তার (১৭) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ কুয়াকাটায় উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। নিহতের স্বামী রিফাত হাওলাদার (২১) প্রাথমিকভাবে আটক ছিলেন এবং আজ মঙ্গলবার হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এক বছর আগে গৌরনদীর বাউরগাতি গ্রামের আ. খালেক হাওলাদারের মেয়ে আরিফা ও মৃত চাচা আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের ছেলে রিফাতের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের টানে তারা চার মাস আগে কুয়াকাটায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। স্বামী রিফাত কুয়াকাটার মেরিন রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের চাকরি করতেন। দাম্পত্য জীবনে মাঝে মাঝে ঝগড়া-বিবাদ হতো।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোমবার রাত পৌণে ১১টার দিকে বাসা থেকে কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আরিফার রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারাল বটি ও অন্যান্য আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী রিফাত তার স্ত্রী আরিফা আক্তারকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। আরিফার বাবা আ. খালেক হাওলাদার বাদি হয়ে স্বামীসহ পাঁচ জনকে আসামি করে মহিপুর থানায় আজ মঙ্গলবার মামলা দায়ের করেছেন।
ওসি আরও জানান, ইতোমধ্যে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বামী রিফাত ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।