
সাগরকন্যা প্রতিবেদন, বরগুনা
বরগুনায় বিয়ের চার মাসের মধ্যে যৌতুক না পাওয়ায় স্ত্রীকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা জেলার বেতাগীর একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার প্রধান আসামি পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের ইসমাইল দরজির ছেলে মিজানুর রহমান রিয়াজ (৩৭)। এ ছাড়া তার বড় ভাই মনির দরজী ও বোন মনিরা আক্তারকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে তার সঙ্গে রিয়াজের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ব্যবসার অজুহাতে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন রিয়াজ। দাবি পূরণ না হওয়ায় তিনি নিয়মিত মানসিক নির্যাতন চালান এবং তালাকের হুমকি দেন।
চলতি মাসের ৫ তারিখ সকাল ৯টার দিকে রিয়াজ তার বড় ভাই ও বোনকে নিয়ে আবারও যৌতুকের টাকা দাবি করেন। গৃহবধূ এতে অস্বীকৃতি জানালে রিয়াজ তাকে মারধর শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তার ভাই ও বোনও গৃহবধূকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। একপর্যায়ে রিয়াজ গৃহবধূর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। গৃহবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, তার বাবা নেই এবং ভাইবোনেরাই তার বিয়ের ব্যবস্থা করেন। বিয়ের সময় দুই লাখ টাকা দেওয়ার পরও আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। প্রতিবেশীরা না এলে তাকে হত্যা করা হতো বলেও তিনি অভিযোগ করেন এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে প্রধান আসামি রিয়াজের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।