
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
মোংলায় সুন্দরবনের পর্যটনবাহী জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার মালিকদের ধর্মঘট চলছে। গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটের আওতায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪’শ নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সুন্দরবন এলাকায় পর্যটকশূন্যতা দেখা দিয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
জালিবোট মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু হানিফ সাগরকন্যাকে জানান, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনাঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রবিবার মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় থাকা অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে নিয়ে যায়। এতে নৌযানের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদেই ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকরা সোমবার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডিজি শিপিং নানা শর্ত আরোপ করে ছোট নৌযান মালিকদের অহেতুক হয়রানি করছে। এসব নৌযান ডিজি শিপিংয়ের আওতাভুক্ত নয় বলেও তিনি দাবি করেন। লাইসেন্সসহ বিভিন্ন ব্যয়বহুল শর্ত পূরণ করা বোট মালিকদের পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ সারা বছরে মাত্র তিন মাস পর্যটন মৌসুম থাকে।
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা পর্যটক আব্দুর রহমান বলেন, পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে নৌযান ধর্মঘটের খবর পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছি। দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা সরোবর আলম বলেন, নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সুন্দরবনে যেতে পারলাম না।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের হয়রানির প্রতিবাদে সব নৌযান মালিক নিজ নিজ নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছেন। ধর্মঘটের আওতায় প্রায় ৪০০টি লঞ্চ, জালিবোট ও ট্রলার রয়েছে।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সোমবার ভোর থেকে কোনো পর্যটক করমজল পর্যটন কেন্দ্রে আসতে পারছেন না।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, নৌযানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও দুর্ঘটনা এড়াতে জালিবোটগুলোর ওপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।